Wednesday, 25 October 2023

ইসলাম ও শিশুবিবাহ

          ইসলাম ও শিশু বিবাহ


ইসলামে শিশু বিবাহের বিধান পাওয়া যায় এটা আমরা শুনি। কিন্তু কেবল শুনেই যদি তাদের বলতে যাই তাহলে বলবে যে - শিশু বিবাহের কথা কুরানে নাই, জাল হাদিসে থাকতে পারে। যখন বলা হয় আয়েশাকে নবী যখন বিবাহ করে তখন তো সে শিশু ছিলো, তার বিপরীতে বলতে চায় যে ৯বছরর আয়েশার সাথে সংসার শুরু করেছে আর তখন সে যুবতী হয়ে গিয়েছিলো, শিশু ছিলনা। তখন সে কি ছিলো তা দেখানোর পূর্বে দেখে নিই যে কুরআনে শিশু বিবাহের বিধান আছে কি নেই - 

                             তাইসীরুল কুরআন

সূরাহ: আত-ত্বলাক/চতুর্থ আয়াত (কুরআন-৬৫/৪)–

তোমাদের যে সব স্ত্রীগণ মাসিক ঋতু আসার বয়স অতিক্রম করেছে তাদের (‘ইদ্দাতের) ব্যাপারে যদি তোমাদের সন্দেহ সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে তাদের ‘ইদ্দাতকাল তিন মাস, আর যারা (অল্প বয়স্কা হওয়ার কারণে) এখনও ঋতুবতী হয়নি (এ নিয়ম) তাদের জন্যও। আর গর্ভবতী স্ত্রীদের ‘ইদ্দাতকাল তাদের সন্তান প্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।


আহ্কামুল কুরআনে এর ব্যাখ্যান করা হয়েছে যে–

আহকামুল কুরআন তৃতীয় খণ্ডের ১৩১নং পেইজ

অতএব হায়য হয়নি— এমন অল্প বয়সী মেয়েকে তালাক দেয়া সহীহ্ হবে। আর তালাক তো সহীহ বিয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে। তাই আয়াতের এ তাৎপর্য রয়েছে যে, অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেয়া সম্পূর্ণ জায়েয। তাছাড়া বাস্তব প্রমাণ হচ্ছে, রাসূলে করীম (স) হযরত আয়েশা (রা)-কে বিয়ে করেছিলেন যখন তাঁর বয়স মাত্র ছয় বছর। তাঁর পিতা হযরত আবূ বকর (রা)-ই তাঁকে বিয়ে দিয়েছিলেন। এ ঘটনার দুটি তাৎপর্য। একটি, ছোট বয়সের মেয়েকে তার পিতা বিয়ে দিতে পারে - সম্পূর্ণ জায়েয। আর দ্বিতীয় হচ্ছে, এই ছোট বয়সের মেয়ে পূর্ণবয়স্কা হয়ে সে বিয়ে রাখা-না-রাখার অধিকারিণী হবে না। তা বাধ্যতামূলক। কেননা নবী করীম (স) পূর্ণবয়স্কতা লাভের পর তাঁকে সে ইখতিয়ার দেন নি।


অর্থাৎ শিশুদের বিবাহের বিধান ইসলামে রয়েছে এবং নবী নিজেই শিশু আয়েশাকে বিবাহ করেছিলো। যদি শিশুবস্থায় বিবাহের পর শিশু যখন বড় হয়ে বুঝবে যে সেই বিবাহ তার জন্য ঠিক হয়নি এবং বিচ্ছিন্ন হতে চাইবে তাহলে সে তা পারবেনা কেননা উপরেই বলা হয়েছে – এই ছোট বয়সের মেয়ে পূর্ণবয়স্কা হয়ে সে বিয়ে রাখা-না-রাখার অধিকারিণী হবে না। তা বাধ্যতামূলক। কেননা নবী করীম (স) পূর্ণবয়স্কতা লাভের পর তাঁকে সে ইখতিয়ার দেন নি।


তর্কের এমতাবস্থায় এলে কেহ কেহ বলে - নবী আয়েশাকে ৬বছরে বিবাহ করেনি, নিকাহ করেছে আর বিবাহ করেছে ৯বছরে বয়সে।  

তাহলে নিকাহ কাকে বলে সেটাই দেখে নেয়া যাক - নিকাহ-এর সংজ্ঞা : শরীয়াতের পরিভাষায় 'নিকাহ' এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে পুরুষ ও নারীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন বৈধ হয়। (তথ্যসূত্র :ফাতওয়ায়ে আলমগীরি) প্রশ্ন রইলো নিকাহ আর বিবাহের পার্থক্য কি? 


এইবার দেখে নিই নবী ৬ আর ৯বছরে আয়েশাকে কি করেছে– 

                                সহীহ মুসলিম

৩৩৪৩.  আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : আমার ছয় বছর বয়সের সময় রাসুলুল্লাহ (সা) আমাকে বিয়ে করেছিলেন। আর আমার বয়স যখন নয় বছর তখন আমার সাথে তার বাসর রাত্রি হয়।.......... (সহীহ মুসলিম - বাংলাদেশ ইসলামি সেন্টার)

সহীহ মুসলিম

৩৩৪৪.  আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন,  আমার বয়স যখন ছয় বছর তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম আমাকে বিয়ে করেন। আর আমার বয়স যখন নয় বছর তখন তিনি আমাকে নিয়ে বাসর ঘর করেন। (সহীহ মুসলিম - বাংলাদেশ ইসলামি সেন্টার)


অর্থাৎ ৬বছরের আয়েশাকে নবী বিবাহ করেছে যা উপরে দেওয়া আহকামুল কুরআনের ব্যাখ্যানেও বলা হয়েছে, আর ৯বছরে আয়েশাকে ধর্ষণ করেছে কেননা শিশুর সাথে আবার কিসের বিবাহ! 


তর্কে এ অবস্থায় আসার পর অনেকে বলে কম বয়সে নিকাহ করা যাবে কিন্তু সহবাস করা যাবেনা। যারা এরূপ বলে তারা আসলে কুরআনের বিরোধী, কেননা (কুরআন-৬৫/৪) আয়াতে কম বয়সী মেয়েদের ইদ্দতের কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্নঃ ইদ্দত কাকে বলে?  ইদ্দতের সংজ্ঞা : হাকীকী নিকাহ বা শিরহে নিকাহ্ ভঙ্গ হয়ে যাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় কাল পর্যন্ত স্ত্রীর অপেক্ষা করা যা অপরিহার্য হয়, সহবাস অথবা- (একজনের) মৃত্যু দ্বারা এই অপেক্ষা করাকে শরী'আতে ইদ্দত বলা হয়।(তথ্যসূত্র :ফাতওয়ায়ে আলমগীরি)

তাফহীমুল কুরআনে ইদ্দত নিয়ে বলা হয়েছে–

তাফহীমুল কুরআন - সপ্তদশ খণ্ডের ২১৫ নং পৃষ্ঠা

এ ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার যে, কুরআন মজীদের স্পষ্ট বক্তব্য অনুসারে যে স্ত্রীর সাথে তার স্বামী নির্জনবাস করেছে কেবল তার ক্ষেত্রেই ইদ্দত পালনের প্রশ্ন আসে। কারণ, নির্জনবাসের পূর্বে তালাক হলে আদৌ কোন ইদ্দত পালন করতে হয় না। (আল আহযাব, ৪৯) সুতরাং যেসব মেয়েদের এখনো ঋতুস্রাব শুরু হয়নি তাদের ইদ্দত বর্ণনা করা স্পষ্টত এ কথাই প্রমাণ করে যে, এ বয়সে মেয়েদের বিয়ে শুধু জায়েযই নয়, বরং তার সাথে স্বামীর নির্জনবাস এবং মেলামেশাও জায়েয। এখন এ কথা স্পষ্ট যে, কুরআন যে জিনিসকে জায়েয বলে ঘোষণা করেছে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করার অধিকার কোন মুসলমানের নেই।


অতঃ সিদ্ধ হলো যে ইসলামে শিশু বিবাহ দিয়ে শিশুর জীবন ধ্বংস করার বিধান রয়েছে। উপরোক্ত প্রমাণ ছাড়াও আরো অনেক প্রমাণ আছে হাদিসের কিন্তু যেহেতু তাদের সর্বোচ্ছ মান্য কুরআন থেকেই প্রমাণ দেওয়া হয়েছে তাই আর হাদিসের প্রমাণ দিয়ে দীর্ঘায়িত করছিনা।

🖋️লেখরাম আর্য 

ISDPA 

No comments:

Post a Comment

Mrichachhakam DR SRI NIBAS SASTRI