Friday, 29 March 2024

মনুসংহিতা এবং শূদ্র নিয়ে যবনদের মিথ্যাচার খণ্ডন




 নমস্তে সকলকে,

"মনুসংহিতা/মনুস্মৃতি" সনাতন ধর্মের স্মৃতি শাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি, মহর্ষি মনু এই গ্রন্থের রচয়িতা।এই মনুস্মৃতিকে নিয়ে সেই অতীতকাল হতে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, বর্তমানেও হচ্ছে এবং বর্তমানে বাংলা ভাষায় যে মনুসংহিতা পাওয়া যায় সেই মনুসংহিতায় অধিকাংশ শ্লোকই প্রক্ষিপ্ত। সেই প্রক্ষিপ্ত শ্লোকগুলোকে কাজে লাগিয়ে যবন পার্টির কিছু ধূর্ত উম্মাদ মনুসংহিতা নিয়ে আক্ষেপ তুলেছেন।আজকে কিছু আক্ষেপের নিবারণ করা হবে।

মণ্ডনঃ

প্রথমে জানা যাক, শূদ্র কারা?

"একমের তূ শূদ্রস্য প্রভুঃ কর্ম সমাদিশৎ। এতেষামেব বর্ণনাং শুশ্রূষামনসূয়য়া ॥"

মনুসংহিতা (১/৯১)

অনুবাদঃ- নিন্দা, ঈর্ষা এবং অভিমানাদি দোষ পরিত্যাগ করিয়া ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, এবং বৈশ্যদিগকে যথোচিত সেবা করা শূদ্রের কর্তব্য এবং তদ্দ্বারাই জীবন যাত্রা নির্বাহ করা। ইহাই একমাত্র শূদ্রের গুণ এবং কর্ম ॥ 

আবার মহাভারত  বলছে,

শূদ্রধর্মঃ পরো নিত্যম্ শুশ্রুষা চ দ্বিজাতিষু (৫৭)

শূদ্রঃ সম্পিততপাঃ সত্যবাদী জিতেন্দ্রিয়ঃ ।

শুশ্রুষুরতিথি প্রাপ্তম্ তপঃ সম্চিনুতে মহত্ (৫৮)

নিত্যম্ স হি শুভাচারো দেবতাদ্বিজপুজকঃ ।

শূদ্রো ধর্মফলৈরিষ্টৈঃ সম্প্ৰয়ুজ্যেত বুদ্ধিমান্। (৫৯)

[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, দানধর্ম পর্ব, অধ্যায়ঃ১৪১(৫৭-৫৯), গীতাপ্রেস]

অনুবাদঃ শূদ্রের পরম ধর্ম হল তিন বর্ণের সেবা করা। যে শূদ্র সত্যবাদী, জিতেন্দ্রিয়,আর ঘরে আসা বিদ্বান অতিথির সেবাকারী, সে মহান তপের সঞ্চয় করে নেয়। তার সেবারূপ ধর্ম হল তার জন্য কঠোর তপস্যা।নিত্য সদাচার পালন আর ঈশ্বরভক্ত তথা বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যকে সম্মানকারী বুদ্ধিমান শূদ্র ধর্মের মনোবাঞ্ছিত ফল প্রাপ্ত করে।

তাহলে বুঝতে পারলাম ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্যের যারা সেবা করবেন তারাই শুদ্র!

★বর্ণ কি পরিবর্তন করা যায়?

এতৈঃ কর্মফলৈৰ্দেবি ন্যুনজাতিকুলোদ্ভবঃ ।

শূদ্রোপ্যাগমসম্পন্নো দ্বিজো ভবতি সস্কৃতঃ।।

[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, দানধর্ম পর্ব(১৪৩/৪৬),গীতাপ্রেস]

অনুবাদঃ দেবী ! এই কর্ম ফলের প্রভাব দ্বারা নীচ জাতি এবং হীন কুলে উৎপন্ন হওয়া শূদ্রও শাস্ত্র জ্ঞান সম্পন্ন আর সংস্কারযুক্ত ব্রাহ্মণ হয়।

★মহাভারতে আরও পাওয়া যায়–

স দ্বিজো বৈশ্যতামেতি বৈশ্যো বা শূদ্ৰতামিয়াত্ ।

স্বধর্মাত্ প্রয়ুতো বিপ্ৰস্ততঃ শূদ্রত্বমাপ্লুতে।।

[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, দানধর্ম পর্ব(১৪৩/১১),গীতাপ্রেস]

অনুবাদঃ যদি বৈশ্য শূদ্রের কর্মকে গ্রহণ করে, তাহলে সে শূদ্রত্বকে প্রাপ্ত করে। শূদ্রচিৎ কর্ম করে নিজের ধর্মে ভ্রষ্ট হওয়া ব্রাহ্মণ শূদ্রত্বকে প্রাপ্ত করে।


শূদ্রো ব্রাহ্মণতামেতি ব্রাহ্মণশ্চৈতি শূদ্রতাম্। 

ক্ষত্রিয়াজ্জাতমেবং তু বিদ্যাদ্বৈশ্যাত্তথৈব চ।।

 মনুসংহিতা (১০/৬৫) 

ভাষ্যঃ- (শূদ্রঃ ব্রাহ্মণতাম্ + এতি) শূদ্র ব্রাহ্মণ (চ) আর (ব্রাহ্মণঃ শূদ্রতাম্ + এতি) ব্রাহ্মণ শূদ্র হয়ে যায় অর্থাৎ গুণ কর্ম অনুসারে যদি ব্রাহ্মণ হয় তো ব্রাহ্মণ থাকে তথা যে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্রের গুণ ধারণ করে সে ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র হয়ে যায়। তেমনি শূদ্রও যদি মূঢ় হয় তো সে শূদ্রই রয় যদি উত্তম গুণযুক্ত হয় তো যথাযোগ্য ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য হয়ে যায়।(ক্ষত্রিয়াত্ জানম্ + এবং তু তথৈব বৈশ্যাত্ বিদ্যাত্) তেমনিই ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্যের বিষয়কেও জেনো। 

উপরোক্ত প্রমাণাদি থেকে জানতে পারলাম শুদ্র এর কর্ম কি এবং শুদ্র চাইলে ব্রাহ্মণও হতে পারবে।

এবার যবনদের চুলাকানির মলম তৈরী করা যাক।


আমরা প্রথমেই বলেছি বর্তমান মনুসংহিতায় অনেক প্রক্ষিপ্ত শ্লোক আছে,সেই প্রক্ষিপ্ততা এবং প্রক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ তুলে ধরে ড.সুরেন্দ্রকুমারজী "বিশুদ্ধ মনুসংহিতা" নামক একটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। সেই গ্রন্থে তিনি যুক্তি এবং প্রমাণ দ্বারা মনুসংহিতার সঠিক শ্লোকগুলো সিদ্ধ করেন।

প্রথমে যবনদের চুলাকানিগুলো দেখে আসি–



আক্ষেপঃ

১)কারন ঈশ্বর শূদ্রের জন্য একটি কাজই নিদিষ্ট করে দিয়েছে তাহলো ব্রাহ্মণের দাসত্ব করা (মনুসংহিতা ১.৯১)।

২)আমরা হলাম ব্রাহ্মণ সে জন্য আমরা জগতের প্রভু (মনুসংহিতা ১.৯৩)।

৩)আমরা মুসলমানেরা ব্রাহ্মণ আর আমরা সাক্ষাৎ সনাতন ধর্মের মূর্তি (মনুসংহিতা ১.৯৮)

৪)আমরা মুসলমান ব্রাহ্মণেরা শূদ্রদের দাসত্ব থেকে অব্যাহতি দিলেও শূদ্র দাসত্ব কর্ম থেকে অব্যাহতি পেতে পারে না (মনুসংহিতা ৮.৪১৪)

৫)আর নমঃশুদ্র গুলো আমাদের দাসত্ব করার জন্যই সৃষ্টি হয়েছে।(মনুসংহিতা ৮.৪১৩)


★প্রথমে(১-৩) নং পয়েন্টগুলো নিয়ে বলা যাক।

শ্লোকগুলো নিম্নরুপ–

১)

একমের তূ শূদ্রস্য প্রভুঃ কর্ম সমাদিশৎ। 

এতেষামেব বর্ণনাং শুশ্রূষামনসূয়য়া ॥ মনুসংহিতা (১/৯১)

অনুবাদঃনিন্দা, ঈর্ষা এবং অভিমানাদি দোষ পরিত্যাগ করিয়া ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, এবং বৈশ্যদিগকে যথোচিত সেবা করা শূদ্রের কর্তব্য এবং তদ্দ্বারাই জীবন যাত্রা নির্বাহ করা। ইহাই একমাত্র শূদ্রের গুণ এবং কর্ম। 

২)

উত্তমাঙ্গোদ্ভবাজ্জ্যৈষ্ঠয়াদ্ ব্রহ্মণশ্চৈব ধারণাৎ । 

সর্বস্যৈবাস্য সর্গস্য ধর্মতো ব্রাহ্মণঃ প্রভুঃ ॥মনুসংহিতা(১/ ৯৩)

অনুবাদঃ(উত্তম অঙ্গ)অর্থাৎ মুখ হতে উৎপত্তি হওয়ার কারণে চার বর্ণের মধ্যে সর্বপ্রথম উৎপন্ন হওয়ায় এটি সবচেয়ে বড় হওয়ার কারণ এবং বেদকে ধারণ করার কারণে এই সম্পূর্ণ সংসারে ব্রাহ্মণই ধর্মের স্বামী।

৩)

উৎপত্তিরেব বিপ্রস্য মূর্তির্ধর্মস্য শাশ্বতী ।

 স হি ধর্মার্থমুৎপন্নো ব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে ॥মনুসংহিতা(১/৯৮)

অনুবাদঃব্রাহ্মণের জন্মই হয় ধর্মের শাশ্বত মূর্তিরুপে অর্থাৎ তাঁহার শরীরকেই প্রত্যক্ষ ধর্মের মূর্তি মান্যতা কর,কেননা ইহা ধর্ম বৃদ্ধির জন্য উৎপন্ন হয়ে মোক্ষ প্রাপ্তীর অধিকারী হয়।


★১ নং অধ্যায়ের (৯২-১০৭) এই শ্লোকগুলো নিম্নোক্ত কারণে প্রক্ষিপ্ত—

(ক) ৯৪ নং শ্লোকে ব্রহ্মার মুখ হতে ব্রাহ্মণের উৎপত্তি বলা হয়েছে। ৯৩নং শ্লোকেও তাকে “উত্তমাঙ্গোদ্ভব” বলা হয়েছে তথা ৯২ তেও ব্রহ্মার চর্চা আছে। ব্রহ্মার প্রসঙ্গ মৌলিক নয়। এই প্রসঙ্গটি মনুস্মৃতির মান্যতা হতে অনেক প্রকারের বিরোধ আছে। এইজন্য দ্রষ্টব্য হলো–(১/৭-১৩), (৩২-৪১),(৫০-৫১) নং শ্লোকগুলোর উপর সমীক্ষা। এই প্রকারে এই  তিনটি শ্লোকও প্রক্ষিপ্ত, এবং শেষ প্রসঙ্গ এই গুলোর সাথে সম্বন্ধ হওয়ার কারণে স্বতঃ প্রক্ষিপ্ত সিদ্ধ হয়ে যাবে।

(খ)মহর্ষি মনু কর্মের ভিত্তিতে বর্ণব্যবস্থা মানতেন,এটার অন্য প্রমাণ ও আছে।শূদ্রকে তিনি হীন মানতেন না কিন্তু 'শুচিঃ' = পবিত্র 'উৎকৃষ্ট শুশ্রূষু' আদি বিশেষণ দ্বারা সম্বোধিত করেন।(৯/৩৩৫)

সবার ঘরে সব প্রকারের সেবা কারী ব্যক্তি কীভাবে অপবিত্র, অশুচি বা হীন হতে পারে?

(গ) মহর্ষি মনু কর্মের ভিত্তিতেই ব্যক্তিকে শ্রেষ্ঠ = আর্য এবং অশ্রেষ্ঠ = অনার্য মানতেন।(১০/৫৭-৫৮) তে তিনি কর্মের আধারে তাদেরকে চিনতে বলেন। এই সব উক্তি মনুর কর্মের ভিত্তিতে বর্ণব্যবস্থাকে মান্যতা করাকে সিদ্ধ করে।

 (ঘ)(১/৩১) নং শ্লোকেও মহর্ষি মনু নিজের "কর্মণা বর্ণব্যবস্থা" মান্যতার সংকেত দিয়েছেন।(১/১৬,২৩,২৫-৩০) দ্বারা ইহাই বলা যায় যে,একসাথে অনেক প্রজা উৎপন্ন হয়েছে—ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়,বৈশ্য এবং শূদ্রগণ রুপে প্রজা উৎপন্ন হয় নি অর্থাৎ সমান মনুষ্যের রুপেই হয়েছে।আবার সেই অনেক মনুষ্যের মধ্যে হতে সমাজের বৃদ্ধির জন্য এক ব্যবস্থা রুপে চার বর্ণকে মুখ,বাহু,পেট এবং পা এর সাম্যতা হতে(গুণকর্মানুসার) নির্মাণ করেছেন।(১/৩১) এ অলংকারিক রুপে এই কথন আছে।উক্ত অঙ্গের যে স্থান এবং কার্য শরীরে আছে,সমাজে ঐ স্থানই ক্রমশ ব্রাহ্মণ,ক্ষত্রিয়,বৈশ্য এবং শুদ্র তৈরী করেছে।এই প্রকারে যোগ্যতাকে আধার করে মনুষ্যকে চার বর্ণে বিভক্ত করে তাদের কর্মও সেই অনুসারে নিশ্চিত করেছেন।এই প্রকার অনেক প্রমাণ দ্বারা "কর্মণা বর্ণব্যবস্থা" মহর্ষি মনুর মৌলিক মান্যতা  সিদ্ধ হয়।অতএব ইহার বিরোধী "জন্মনা বর্ণব্যবস্থা" এই মান্যতা অন্তর্বিরোধের উপর আধারিত হওয়ায় প্রক্ষিপ্ত বলা যায়।এই মান্যতার বিষয়ে (১/৩১,৮৭-৯১),(২/১১),(১০/৬৫) এর সমীক্ষাও দ্রষ্টব্য।

(ঙ)মহর্ষি মনু কর্মের ভিত্তিতে মানুষের দুইটি শ্রেণী মানেন। (১) যারা শ্রেষ্ঠ ধর্মানুকুল আর্য পরম্পরায় দীক্ষিত, শূদ্রসহ তারা চার বর্ণই আর্য। (২) এখানে অদীক্ষিত বাকি সবাই দস্যু।(১০/৪৫)

(চ)এই প্রকার ৯৪-৯৫ নং শ্লোকে পিতরদের পৃথক যোনি বিশেষ কোন রূপে মান্য করাও মহর্ষি মনু বিরোধী মান্যতা হয়।এইজন্য বিস্তৃত সমীক্ষা দেখুন–(৩/১১৯–২৮৪) শ্লোকের মধ্যে 'অন্তবিরোধ' শীর্ষক।এই অন্ত বিরোধের কারণে (৯৪–৯৫) নং শ্লোক প্রক্ষিপ্ত সিদ্ধ হয়। শেষ পূর্বাপর প্রসঙ্গের সম্বন্ধ হওয়ার কারণে  স্বতঃ প্রক্ষিপ্ত বলা যাবে।

(ছ)১০৫ নং শ্লোকে পূর্বাপর এর সাথে গৌড়িয়দের পবিত্রতা মানা হয়েছে।ইহা(৪/২৪০) এর মান্যতার বিরোধ, কেননা সেখানে কর্তাকে স্বয়ং ফলের ভোক্তা মানা হয়েছে। যদি এক ব্যক্তি মনুস্মৃতিকে পড়ে পূর্বাপরের সাথে-সাথে গৌড়িয়দের পবিত্র করে নেয় তাহলে গৌড়িয়দের মনুস্মৃতিকে পড়ার কী আবশ্যকতা আছে? তাদের জীবন তো এক অধ্যেতায় পবিত্র করে দিয়েছে।  এই অন্ত বিরোধের কারণে ১০৫ নং শ্লোক প্রক্ষিপ্ত।  শেষ পূর্বাপর শ্লোকের সাথে সম্বন্ধিত,  অতঃপর  সাথে রচনা হওয়াতে এইটাও স্বতঃ প্রক্ষিপ্ত বলা যাবে।

★এবার (৪-৫) নং পয়েন্ট নিয়ে বলা যাক—

শ্লোকগুলো নিম্নরুপ—

৪)

ন স্বামিনা নিসৃষ্টোঽপি শূদ্রো দাস্যাদ্বিমুচ্যতে । 

নিসর্গজং হি তত্তস্য কস্তস্মাৎ তদপোহতি ॥মনুসংহিতা(৮/৪১৪)

অনুবাদঃ- শূদ্র স্বামী দ্বারা ত্যাগ করার পরও দাসত্ব হতে মুক্ত হয় না।দাসতার কার্য করা তার স্বাভাবিক ধর্ম,দাসত্ব থেকে তাকে কে মুক্ত করতে পারে?অর্থাৎ কেউ নয়!

৫)

শূদ্রং তু কারয়েদ্ দাস্যং ক্রীতমক্রীতমেব বা।

 দাস্যায়ৈব হি সৃষ্টোঽসৌ ব্রাহ্মণস্য স্বয়ম্ভুবা ॥মনুসংহিতা(৮/৪১৩)

অনুবাদঃ- ক্রয় করে নিয়ে এসে অথবা বেতন দিয়ে রেখে শুদ্র দ্বারা দাস্য কার্য করান,কেননা ব্রহ্মা ব্রাহ্মণের দাসতার জন্যই শূদ্রকে রচনা করেছেন।

(মলম)খণ্ডনঃ


★৮নং অধ্যায়ের(৪১০-৪২০) নং শ্লোকগুলো নিম্ন প্রকারে প্রক্ষীপ্ত-

১)বিষয়বিরোধঃ-মহর্ষি মনু দ্বারা নির্ধারিত ১৮ ব্যবহারের  বর্ণনা তে বাহ্য হওয়ার কারণে এই বৈশ্য-শূদ্র বিষয়ক শ্লোক বিষয়বিরুদ্ধ,অতএব প্রক্ষিপ্ত। বিস্তারিত জানার জন্য দ্রষ্টব্য(৮/৩৯০-৩৯৭) এর উপর আধারিত সমীক্ষা।

২)প্রসঙ্গবিরোধঃ-(ক)মহর্ষি মনুর নিজের লিখিত বিষয়সংকেত শ্লোকগুলো(৮/৪-৭) অনুসারে ১৮ ব্যবহারের নির্ণয় এর সমাপ্তি (৯/২৫০) এই শ্লোকে হয়। ব্যবহারের সমাপ্তি হওয়ার পূর্বেই (৪১৯-৪২০) শ্লোকে সকল ব্যবহারের সমাপ্তি এবং ইহার ফলের কথন করা অসঙ্গত।

(খ)বৈশ্য,শূদ্রের কর্মের প্রসঙ্গ(৯/৩২৬-৩৩৫),(১০/১-১০) এ আছে,সেখানে এটি প্রসঙ্গবিরুদ্ধ।

৩) অন্তর্বিরোধঃ-(ক)( ৪১২–৪২৮) নং শ্লোকে দাস প্রথার উল্লেখ রয়েছে এবং তাদের দিয়ে জোরপূর্বক কাজ করানোর বিধানও রয়েছে। এই প্রথা মহর্ষি মনুর বিরুদ্ধ। কাজ করানোর বদলে মহর্ষি মনু পারিশ্রমিক দেওয়ার বিধান  করেছেন (৮/২১৪–২১৬)।মহর্ষি মনুর ব্যাবস্থায় দাসদের  ‘অস্তিত্বই’ নেই,  যেখানেই দাস শব্দটি থাকুক না কেন তার অর্থ হলো  ‘সেবক’ (৪/১৮০)।  উনারা শূদ্রবর্ণ মেনেছিলেন ও তাদের সেবা কার্য নির্ধারণ করেছেন এবং তাও জোরপূর্বক নয় বরং  দ্বিজাতিদের সেচ্ছায় সেবা করার অধিকার শূদ্রদের দেওয়া হয়েছে। (১/৯১),( ৯/৩৩৪–৩৩৫),(১০/৯৯)।

(খ)  ৪১৬ বা (৫/১৫০) এবং( ৯/১১৪,১৩০,১৩১) আদি বিরুদ্ধ,যেখানে কন্যা ও স্ত্রীদের সম্পত্তিতে অধিকার মানা হয়েছে। এই অন্তর্বিরোধ এর ভিত্তিতে  এই শ্লোকও প্রক্ষিপ্ত। 

(৪)  শৈলীগত ভিত্তিঃ-এই শ্লোকের শৈলী মহর্ষি মনুর শৈলীর মতো নির্লিপ্ত এবং সমভাবাপন্ন না হয়ে পক্ষপাত, দুরাচার এবং ঘৃণাযুক্ত হয়েছে ।  এই ভিত্তিতেও এটি মহর্ষি মনু প্রণিত সিদ্ধ হয় না। এই প্রক্ষীপ্ত শ্লোকগুলোতে ব্রাহ্মণদের কর্তব্য পালন না করার জন্যও কোন শাস্তি লেখা হয় নি, যেখানে অন্যত্র কর্তব্য ত্যাগ  এবং অপরাধ করার জন্য ব্রাহ্মণদের অন্য সকল বর্ণের চেয়ে অধিক শাস্তির বিধান রয়েছে।  অতঃপর  এই অসংগতির কারণে এই শ্লোকও প্রক্ষিপ্ত। 

বিশেষঃ- এই শ্লোকগুলোকে স্থান ভ্রষ্ট  না মেনে  প্রক্ষিপ্ত এই কারণে মানা হয়েছে যে, 

(১) বিষয় বিরোধের সাথে সাথে অন্য ‘ভিত্তিতে’ও প্রক্ষিপ্ত প্রমানিত হয়। 

(২) এই অধ্যায়ে এই শ্লোকগুলোর মধ্যে সম্মন্ধযুক্ত কোন প্রসঙ্গই নেই,  যেখান থেকে খন্ডিত মেনে একে স্থান ভ্রষ্ট মানা যাবে।

বিচারঃ

বর্তমানে মনুসংহিতায় প্রাপ্ত(১/৯২-১০৭) এবং (৮/৪১০-৪২০) এই শ্লোকগুলো প্রক্ষীপ্ত হওয়ার কারণে গ্রহণীয় নয়।তাই এই শ্লোকগুলো দেখিয়ে মানুষকে মূর্খ(মুমিন) বানানো বোকামী।মুমিনদের ব্রাহ্মণ বললে "ব্রাহ্মণ" শব্দটিরই অপমান করা  হবে,কারণ তারা সঠিক সিদ্ধান্তে শুদ্রই হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

কুয়োই বসবাসকারী ব‍্যাঙ সমুদ্রের বিশালতা কল্পনাও করতে পারে না।

"সত্যমেব জয়তে"

★ISDPA★

Monday, 25 March 2024

মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর ঋগ্বেদ(১/২৪/৬) নং মন্ত্রের ভাষ্য নিয়ে যবনের আক্ষেপ নিবারণ!


 নমস্তে সকলকে,

"ISDPA" এর পক্ষ থেকে আমরা অনেকবার বলেছি যে,আর্য বেদভাষ্যের বাংলা যে অনুবাদগুলো পাওয়া যায় সেগুলোতে কিছু কিছু ত্রুটি আছে। তার অধিকাংশ অনুবাদে কোন না কোন ভুল আছে।আজকের লেখায় সে বিষয়ে কিছুটা হলেও জানতে পারবেন।

বিবাহবহির্ভূত প্রেমিক প্রেমিকার সন্তানরা আক্ষেপ করেছেন,"মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী উনার ঋগ্বেদ(১/২৪/৬) নং মন্ত্রের ভাষ্য নিজের মনগড়া করেছেন এবং ভণ্ডামি করেছেন"।



ISDPA: আদৌ কি মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী নিজের মনগড়া ভাষ্য করেছেন?

চলুন সেটাই দেখা যাক—

প্রথমে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর ঋগ্বেদ(১/২৪/৬) মন্ত্রের ভাষ্যটি দেখিঃ-


ऋषिः - शुनःशेप आजीगर्तिः स कृत्रिमो वैश्वामित्रो देवरातः

देवता - वरुणः

छन्दः - निचृत्त्रिष्टुप्

स्वरः - धैवतः

न॒हि ते॑ क्ष॒त्रं न सहो॒ न म॒न्युं वय॑श्च॒नामी प॒तय॑न्त आ॒पुः। नेमा आपो॑ अनिमि॒षं चर॑न्ती॒र्न ये वात॑स्य प्रमि॒नन्त्यभ्व॑म्॥

स्वर सहित पद पाठ

न॒हि । ते॒ । क्ष॒त्रम् । न । सहः॑ । न । म॒न्युम् । वयः॑ । च॒न । अ॒मी इति॑ । प॒तय॑न्तः । आ॒पुः । न । इ॒माः । आपः॑ । अ॒नि॒ऽमि॒षम् । चर॑न्तीः । न । ये । वात॑स्य । प्र॒ऽमि॒नन्ति॑ । अभ्व॑म् ॥


स्वर रहित मन्त्र

नहि ते क्षत्रं न सहो न मन्युं वयश्चनामी पतयन्त आपुः। नेमा आपो अनिमिषं चरन्तीर्न ये वातस्य प्रमिनन्त्यभ्वम्॥

स्वर रहित पद पाठ

नहि। ते। क्षत्रम्। न। सहः। न। मन्युम्। वयः। चन। अमी इति। पतयन्तः। आपुः। न। इमाः। आपः। अनिऽमिषम्। चरन्तीः। न। ये। वातस्य। प्रऽमिनन्ति। अभ्वम्॥

विषयःपुनस्स कीदृश इत्युपदिश्यते।

अन्वयःहे जगदीश्वर ! ते तव क्षत्रं पतयन्तः सन्तोऽमी लोका लोकान्तरानापुर्न व्याप्नुवन्ति न वयश्च न सहो न मन्युं च व्याप्नुवन्ति नेमा अनिमिषं चरन्त्य आपस्तव सामर्थ्यं प्रमिनन्ति, ये वातस्य वेगास्तेऽपि तव सत्तां न प्रमिनन्त्यर्थान्नेमे सर्वे पदार्थास्तवाभ्वम्-सत्तानिषेधं च कर्त्तुं शक्नुवन्ति॥६॥

पदार्थः(नहि) निषेधे (ते) तव सर्वेश्वरस्य (क्षत्रम्) अखण्डं राज्यम् (न) निषेधार्थे (सहः) बलम् (न) निषेधार्थे (मन्युम्) दुष्टान् प्राणिनः प्रति यः क्रोधस्तम् (वयः) पक्षिणः (चन) कदाचित् (अमी) पक्षिसमूहा दृश्यादृश्याः सर्वे लोका वा (पतयन्तः) इतस्ततश्चलन्तः सन्तः (आपुः) प्राप्नुवन्ति अत्र वर्त्तमाने लडर्थे लिट्। (न) निषेधार्थे (इमाः) प्रत्यक्षाप्रत्यक्षाः (आपः) जलानि प्राणा वा (अनिमिषम्) निरन्तरम् (चरन्तीः) चरन्त्यः (न) निषेधे (ये) वेगाः (वातस्य) वायोः (प्रमिनन्ति) परिमातुं शक्नुवन्ति (अभ्वम्) सत्तानिषेधम्। अत्र ‘भू’ धातोः क्विप् ततश्छन्दस्युभयथा। (अष्टा०६.४.८६) इत्यभिपरे यणादेशः॥६॥



উপরোক্ত মন্ত্রে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী "তে"=" তব সর্বঐশ্বর্য্যস্য" অর্থাৎ "তোমার বা আপনার সকল ঐশ্বর্য্যের" করেছেন।দেখুন "তব" এর অর্থ-



মধ্যম পুরুষ একবচনান্ত " ত্বম্ " সর্বনাম শব্দের সম্বন্ধ কারক ষষ্ঠী বিভক্তিতে "তে বা তব" উভয় শব্দরূপ হয়, বাংলায় যা "র বা এর" অর্থ নির্দেশ করে। ষড়বেদাঙ্গ জ্ঞান ব্যাতিত বেদের অর্থ বিচার করা সম্ভব নয়। 



অবৈধ সম্পর্কে উৎপন্ন সন্তানদের মস্তিষ্কে এমন সূক্ষ্ম শুদ্ধ জ্ঞান ধারণ করা সম্ভব নয়। 

তাই "তোমার সকল ঐশ্বর্য্যের" এটি সঠিক,কারণ মন্ত্রটি পরমাত্মা পক্ষে।প্রথম মণ্ডলের ২৪ নং সুক্তের (৪-৮) নং মন্ত্রগুলো পরমাত্মা পক্ষে হয়!



মহর্ষি দয়ানন্দজী একই সুক্তের ৪ নং মন্ত্রে "তে" অর্থ "তব" এবং ৫ নং মন্ত্রের ভাষ্যেও "তে" অর্থ "তব জগদীশ্বরস্য" করেছেন।


ঋগ্বেদ(১/২৪/৪)

ঋগ্বেদ(১/২৪/৫)

বিচারঃ

বাংলা অনুবাদে "তোমার" শব্দটি নেই এবং সেখানে ষষ্ঠী বিভক্তির ব্যবহারও করা হয় নি।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

মূর্খ(মুমিন)  কখনো জ্ঞানের সন্ধান পাই না।

"সত্যমেব জয়তে"

★ISDPA★

Friday, 22 March 2024

মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীকে নিয়ে মিথ্যাচারের জবাব


 

একটি বিষয় স্পষ্টিকরণ!

বিষয়ঃ

মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী কি বিনাকারণে পশু হত্যাকে সমর্থন করতেন?

সনাতনী এবং মুমিন(মূর্খ) এর কথোপকথন,

মুমিনঃআসসালামু আলাইকুম!

সনাতনীঃনমস্তে!

মুমিনঃভাই স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীতো প্রাণী হত্যাকে সমর্থন করতেন না!

সনাতনীঃহ্যাঁ,উনি বিনাকারণে(মাংসভক্ষণের জন্য,বলির উদ্দেশ্যে) প্রাণীহত্যা সমর্থন করতেন না।

মুমিনঃকিন্তু উনি যজুর্বেদ এর ভাষ্য করতে গিয়ে (১৩/৪৮,৫০ এবং ৫১) নং মন্ত্রগুলোর বিষয় লিখতে গিয়ে লিখেছেন,

"পুনঃ এই মনুষ্য কী করিবে এই বিষয় পরবর্ত্তী মন্ত্রে বলা হইয়াছে" ৷৪৮

"পুনঃ কী কী পশুদিগকে না মারা এবং কী কী পশুদিগকে মারা উচিত, এই বিষয় পরবর্ত্তী মন্ত্রে বলা হইয়াছে"। ৫০

"পুনঃ মনুষ্যদিগকে কোন্ পশু না মারিবার এবং কোন্ পশু মারিবার যোগ্য বলা হইয়াছে – এই বিষয় পরবর্তী মন্ত্রে বলা হইয়াছে" ।৫১


এগুলো থেকে বুঝা যায় স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী স্ববিরোধী ছিলেন।

সনাতনীঃপ্রথমে এটা বলুন!মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী কি কোথাও বলেছেন যে,"কোন হিংস্র প্রাণী আক্রমন করলে তাকে প্রতিহত না করে চুমু দিতে"?

মুমিনঃহয়তো এমন কথা বলেন নি!

সনাতনীঃ তাহলে স্ববিরোধ হয় কি করে?সেই মন্ত্রগুলোর ভাবার্থও দেখুন।

ভাবার্থঃ- মনুষ্যদিগের উচিত এক ক্ষুরযুক্ত অশ্বাদি পশু এবং উপকারক বনের পশুকে কখনও কেহ মারিবে না । যাহাদের মারিলে জগতের ক্ষতি এবং না মারিলে সকলের উপকার হয় তাহাদের সর্বদা পালন পোষণ করিবে এবং যাহারা ক্ষতিকর পশু তাহাদের মারিবে । ৪৮ ॥



পয়েন্ট বি নোটেটঃউপকারী পশুদের মারিবে না,ক্ষতিকর পশুদের মারিবে।

ভাবার্থঃ- হে রাজন! যে সব মেষাদির লোম ও ত্বক্ মনুষ্যদিগের সুখের জন্য হয় এবং যে ঊট ভার উঠাইয়া মনুষ্যকে সুখ প্রদান করে তাহাদেরকে যে দুষ্টব্যক্তিরা মারিতে চাহে তাহাদিগকে সংসারের দুঃখদায়ী মনে করিবে এবং তাহাদেরকে ভালমতো দন্ড দেওয়া উচিত এবং যে বন্য উট ক্ষতিকারক হয় তাহাদেরকেও দন্ড দেওয়া উচিত ॥ ৫০ ॥



পয়েন্ট বি নোটেটঃক্ষত্রিয়ের আরেক নাম রাজন্য,কারণ তারা রাজ্য রক্ষা করেন।যারা উপকারী ঊটদের মারিতে চাই তাদের দন্ড দিবে আবার বন্য ঊট(মুমিন) ও যদি ক্ষতিকারক হয় তাদেরকেও দন্ড দিবে।

ভাবার্থঃ- মনুষ্যদিগের উচিত যে, ছাগ ও ময়ুরাদি শ্রেষ্ঠ পশুদিগকে মারিবে না এবং ইহাদের রক্ষা করিয়া উপকারের জন্য সংযুক্ত করিবে এবং যে ভাল পশু ও পক্ষীর হত্যাকারী হইবে তাহাদিগকে শীঘ্র তাড়না দিবে।তবে যে ক্ষেতকে ধ্বংসকারী পঙ্গপালাদি আছে তাহাদিগকে প্রজার রক্ষার নিমিত্ত মারিবে ৷ ৫১ ॥



পয়েন্ট বি নোটেটঃশ্রেষ্ট পশুদিগকে মারিবে না,বরং রক্ষা করিবে। পঙ্গপালাদি ক্ষতিকারক প্রাণীদের প্রজার রক্ষার নিমিত্তে মারিবে।

মুমিনঃভাই,মারার কথাতো বলা হয়েছে।

সনাতনীঃযজুর্বেদ(১৩/৪৭) এ কি বলেছেন দেখুন—

ভাবার্থঃ- কোন মনুষ্য সকলের উপকারী পশুদিগকে কখনও মারিবে না কিন্তু ইহাদের সম্যক্ প্রকারে রক্ষা করিবে এবং ইহা দ্বারা উপকার লইয়া সকল মনুষ্যকে আনন্দ দান করিবে। যে বন্য পশুগুলির দ্বারা গ্রামের পশু, কৃষি ও মনুষ্যের ক্ষতি হয় উহাদিগকে রাজপুরুষ মারিবে বা বন্ধন করিয়া রাখিবে । ৪৭ ॥


পয়েন্ট বি নোটেটঃউপকারী পশুদিককে কখনো মারিবে না।যে বন্য পশুগুলির দ্বারা গ্রামের পশু, কৃষি ও মনুষ্যের ক্ষতি হয় উহাদিগকে রাজপুরুষ মারিবে বা বন্ধন করিয়া রাখিবে । 

ক্ষতিকর প্রাণীদের দন্ড দেওয়া বা মারা কি উচিত নয়?

মুমিনঃসেটা ঠিক আছে,কিন্তু স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীতো বলেছেন প্রাণী হত্যায় নিষেধ!

সনাতনীঃহিংস্র বা ক্ষতিকর প্রাণীদের হাতে কি প্রাণ দিতে বলেছেন?

মুমিনঃনা,এমন কথা বলেনি হয়তো।

সনাতনীঃদেখুন রামায়ণ কি বলছে,"কামজ ব্যসন তিন প্রকার মানা হয়েছে।এগুলোর মধ্যে মিথ্যা বলা মহাপাপ তথা শেষ দুইটি – পরস্ত্রীগমন এবং অকারণে প্রাণীদের হিংসা করা তার চেয়েও বড়"।

বাল্মিকী রামায়ণ,অরণ্যকান্ড(৭/৩)



মুমিনঃতার মানে মেনে নিচ্ছেন সনাতন ধর্মে প্রাণীহত্যা বৈধ?

সনাতনীঃনা,তবে রাজ্য(দেশ) এবং প্রজা(জনগণ) এর রক্ষার নিমিত্তে হত্যা করা উচিত।আত্মরক্ষার ক্ষেত্রেও করা যেতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী প্রাণীহত্যা সমর্থন করতেন না কিন্তু আত্মরক্ষা,দেশরক্ষা এবং প্রজারক্ষার  নিমিত্তে হিংস্র,ক্ষতিকারক পশুদের মারা প্রয়োজন। 

"সত্যমেব জয়তে"

★ISDPA★

Mrichachhakam DR SRI NIBAS SASTRI