স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীকে কেন ঋষি বলা হয়?
একটি সমীক্ষাঃ
শাস্ত্র সম্পর্কে স্বল্পজ্ঞানী কিছু ব্যক্তিরা দাবি করছেন যে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীকে “ঋষি” বলা যাবে না।
সত্যিই কি তাই!
আজকে এই বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।
প্রথমে বেদভাষ্যকারদের বেদভাষ্য থেকে দেখে আসি।
★আচার্য্য উব্বট তার শুক্লযজুর্বেদ ভাষ্যের (৭/৪৬) এ লিখেছেন, “ঋষিমন্ত্রাণাম্ ব্যাখ্যাতা” অর্থাৎ ঋষি মন্ত্রের ব্যাখ্যাকর্তা।
★★একই মন্ত্রের ভাষ্য করতে গিয়ে মহিধরও লিখেছেন,”ঋষিম্ মন্ত্রাণাম্ ব্যাখ্যাতারম্” অর্থাৎ ঋষিগণ মন্ত্রের ব্যাখ্যাকরেন।
★★★ নিরুক্ত (১৩/১২) অনুসারে “পূর্বকালে ঋষিরা দেবতাদের জিজ্ঞাসা করলেন আমাদের মধ্যে কারা ঋষি হবে?তাদের দেবতারা বললেন “তর্কই ঋষি” অর্থাৎ মন্ত্রার্থ বিচার করার জন্য যিনি বা যাহারা এক পূর্ণ দেবজ্ঞ(উত্তম গুণ সম্পন্ন) তর্ক করেন তাহারাই আর্ষ বা ঋষি হন।”
★★★★আবার বৌধায়ন গৃহ্যসূত্র (১/৭/৭) এ বলা হয়েছে, “চতুর্বেদাদ্ ঋষি” অর্থাৎ যিনি চতুর্বেদ অধ্যয়ন করেছেন তিনি ঋষি।
আবার স্বামী বিবেকানন্দের মতে,
“আধ্যাত্মিক জগতের সত্য লাভ করিতে হইলে মানুষকে উহার অতীত প্রদেশে, ইন্দ্রিয়ের বাহিরে
যাইতেই হইবে । আর এখনও এমন ব্যক্তি সকল আছেন, যাহারা পঞ্চইন্দ্রিয়ের সীমার বহির্দেশে যাইতে সক্ষম ।ইহাদিগকেই ঋষি বলে কারণ, ইহারা আধ্যাত্মিক সত্য সমূহের সাক্ষাৎকার করিয়া থাকেন।"
দ্রষ্টব্যঃভারতে বিবেকানন্দ,ভারতীয় মহাপুরুষগণ,পৃষ্ঠাঃ(১৬৭-১৬৮)
শুধু তাই নয়,তিনি আরও বলেছেন-
“বন্ধুগণ, যতদিন না তোমাদের প্রত্যেকেই ঋষি হইতেছ,যতদিন না আধ্যাত্মিক সত্য সাক্ষাৎকার করিতেছ। ততদিন তোমাদের ধর্মজীবন আরম্ভ হয় নাই জানিবে।”
দ্রষ্টব্যঃভারতে বিবেকানন্দ,ভারতীয় মহাপুরুষগণ,পৃষ্ঠাঃ১৬৮।
আধুনিক ভারতের দিকে তাকালে দেখা যায় মহাত্মা অরবিন্দকেও ঋষি বলা হয় আবার তিনি তার "বঙ্কিম-তিলক-দয়ানন্দ" গ্রন্থে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রকেও ঋষি বলেছেন এবং মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর কাজ সম্পর্কে অনেক কিছুই বর্ণনা করেছেন।
বিচারঃ উপরোক্ত প্রমাণাদি হইতে সিদ্ধ হইতেছে যে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীকে “ঋষি” বলা সম্পূর্ণই সংগত।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
বেদমন্ত্রের দ্রষ্টা না হওয়া সত্ত্বেও মহর্ষি বাল্মীকি এবং মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ণ (বেদব্যাস) কেও ঋষি বলা হয়।
সত্যমেব জয়তে
★ISDPA★







No comments:
Post a Comment