নমস্তে সকলকে,
বিষয়ঃএক্স হিন্দু(নও মুসলিম) এর দাবী খণ্ডন এবং কুরআনের রচয়িতার সন্ধান।
একজন এক্স হিন্দু(নও মুসলিম) দাবী করেছেন যে,"বেদ নাকি ঋষিরা তাদের শিষ্যদের দিয়ে নির্মান করতেন অর্থাৎ বেদ মনুষ্যকৃত গ্রন্থ"।
চলুন দেখি সেই নও উম্মতের দাবীটা,
তার দাবী কতটুকু সত্য সেটা প্রমাণ করা হবে।যখন কারো গোমাংস খাওয়ার লোভ জাগে এবং খাওয়ার পর উত্তেজনায় ৭২ হুরকে স্বপ্নে দেখে সে অবশ্যই নবীর উম্মত হবেই।
খণ্ডনঃ
প্রথমেই মূল মন্ত্রটি দেখা যাক,
ঋষিঃ—কণ্বো ঘৌরঃ।। দেবতা—মরুতঃ।। ছন্দঃ—য়বমধ্যাবিরাগায়ত্রী।। স্বরঃ-ষড়জঃ।।
[পুনঃ সে বিদ্বান কর্তৃক শিক্ষা স্বাধ্যায় প্রাপ্ত শিষ্য কেমন হওয়া উচিত, এই বিষয়ে উপদেশ মন্ত্রে করা
ও৩ম্ মিমীহি শ্লোকমাস্যে পর্জন্য ইব ততনঃ।
গায় গায়ত্রমুক্থ্যম্।। ১৪৷৷
পদার্থঃ হে বিদ্বান মনুষ্য! তুমি (আস্যে) নিজের মুখে (শ্লোকম্) বেদের শিক্ষা দ্বারা যুক্ত বাণীকে (মিমীহি) নির্মাণ কর এবং সেই বাণীকে (পর্জন্য ইব) যেরূপ মেঘ বৃষ্টি করে, ঐরূপ (ততনঃ) বিস্তৃত (উত্থ্যম্)এবং করিবার যোগ্য, (গায়ত্রম্) গায়ত্রী ছন্দযুক্ত স্তোত্ররূপ বৈদিক সূক্তকে (গায়) শ্রবণ তথা শ্রাবণ কর।। ১৪।।
সরলার্থঃ হে বিদ্বান মনুষ্য! তুমি নিজের মুখে বেদের শিক্ষা দ্বারা যুক্ত বাণীকে নির্মাণ কর এবং সেই বাণীকে যেরূপ মেঘ বৃষ্টি করে, ঐরূপ বিস্তৃত এবং করিবার যোগ্য, গায়ত্রী ছন্দযুক্ত স্তোত্ররূপ বৈদিক সূক্তকে পঠন তথা পাঠন কর।। ১৪।।
ভাবার্থঃ এই মন্ত্রে উপমাপলঙ্কার আছে। হে বিদ্বান হইতে বিদ্যা স্বাধ্যায় করিয়া মনুষ্য! তোমাদের উচিত যে, সব প্রকার প্রযত্নের সহিত বেদবিদ্যা দ্বারা শিক্ষিত হইয়া বেদবাণী হইতে বাণীর বেত্তার ন্যায় বক্তা হইয়া বায়ু আদি পদার্থের গুণের স্তুতি তথা উপদেশ কর।। ১৪।।
ভাষ্যকারঃমহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী।
উপরোক্ত মন্ত্রে উপমালঙ্কার বোঝানো হয়েছে।শিষ্য গুরু হতে বেদমন্ত্র আয়ত্ব করে গুরুর মত বিদ্বান হওয়ার কথা বলা হচ্ছে।একটু লক্ষ্য করুন,"তুমি নিজের মুখে বেদের শিক্ষা দ্বারা যুক্ত বাণীকে নির্মাণ কর" অর্থাৎ বেদ হতে শিক্ষা লাভ করে সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে নতুন জ্ঞান উৎপন্ন কর।এখানে বেদের শিক্ষা দ্বারা যুক্ত বাণীকে উৎপন্ন করতে বলা হয়েছে বেদকে বা বেদমন্ত্রকে নয়!বেদ হতে শিক্ষা নিচ্ছেন শিষ্য তার মানে বেদ এর আগেই ছিল,না হলে শিক্ষা নিবে কোথা থেকে?
★★
বিষয়ঃবেদবানীর স্মরণ এবং গান
পদার্থঃ
১.(শ্লোকম্)- প্রভূর গুণগানকারী এই বেদবাণীসমূহকে (আস্যে মিমীহি)-মুখে নির্মিত করে নাও অর্থাৎ এগুলোকে কণ্ঠস্থ করে নাও।
২. (পর্জন্যঃ ইব ততনঃ) মেঘ এর সমান(গম্ভীর স্বর দ্বারা দূর-দূর পর্যন্ত গর্জন করে)ইহাকে প্রকাশ কর।
৩.(গায়ত্রম্) গায়ত্রী ছন্দে বলা হয়েছে অথবা গানকারীর ত্রাণ করা (উক্ষ্যম্) স্তুতিযুক্ত বেদবচনগুলোকে (গায়)-তুমি স্বয়ম্ গাও।
৪.কণ্ঠস্থ করে সর্বধা বাক্যের বিস্তার এবং গাওয়ার স্বাভবিক পরিণাম হয় এই যে আমাদের সামনে জীবনের লক্ষ্য সর্বধা উপস্থিত থাকে।এই লক্ষ্য-দৃষ্টি আমাদের মার্গভ্রষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে।সেই গায়ত্রী ছন্দের মন্ত্রগুলো গাওয়ার যোগ্য।
ভাবার্থঃআমরা বেদবাণীকে কণ্ঠস্থ করবো,ইহার বিস্তার এবং গান করবো।
ভাষ্যকারঃহরিশরণ সিদ্ধান্তলংকার।
উপরোক্ত মন্ত্রে বেদবাণীকে কণ্ঠস্থ করার কথা বলা হয়েছে,কিন্তু মুমিন(মূর্খ) যে দাবীটা করেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এবার আমরা দেখি "কুরআন" কি আল্লাহ্ নামক কোন সর্বজ্ঞ এবং সর্বশক্তিমান স্রষ্টার বাণী?
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
অনুবাদঃপরমকরুণাময় মেহেরবান আল্লাহ্ এর নামে।
সুরাঃফাতিহা,আয়াতঃ১
উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ্ হচ্ছে "প্রথম পুরুষ" কারণ যাকে উদ্দশ্য করে বলা হয় তিনি হলেন "প্রথম পুরুষ"।(কর্তা) হয় "উত্তম্ পুরুষ"! কারণ,"আমি" এটি উত্তম্ পুরুষেই হয়।বাক্যটি তখনই কোন স্রষ্টার হত যদি তিনি বলতেন-আমি বলছি তুমি বলো,"আল্লাহ্ এর নামে" অথবা "আমার নামে"!
তাহলে বুঝা যাচ্ছে যে,কুরআনের প্রথম আয়াতটি আল্লাহ্ এর নয় বরং অন্যকোন সত্ত্বার!কারণ,সেই আয়াতে কোন উত্তম্ পুরুষ বা আমি,সর্বনামের ব্যবহার করা হয় নি।
এবার আরও একটি বিষয় দেখা যাক,
সুরাঃআল-হিজর,আয়াতঃ৯৪ এ বলা হয়েছে,
فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ وَ اَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِیْنَ
অনুবাদঃ হে নবী! তোমাকে যে বিষয়ের হুকুম দেয়া হচ্ছে তা সরবে প্রকাশ্যে ঘোষণা করো এবং শিরককারীদের মোটেই পরোয়া করো না।
পয়েন্টঃউপরোক্ত আয়াতটি নবীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে এবং (৯৪-৯৯) আয়াতগুলোও নবীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে।কিন্তু,বড়ই কিন্তু সুরা আন্-নহলের প্রথম আয়াতটিতে দেখা যায় অন্যকেউ আল্লাহ্ এর কথা বলছেন।চলুন সেটি দেখা যাক—
اَتٰۤى اَمْرُ اللّٰهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوْهُ١ؕ سُبْحٰنَهٗ وَ تَعٰلٰى عَمَّا یُشْرِكُوْنَ
অনুবাদঃএসে গেছে আল্লাহর ফায়সালা। এখন আর একে ত্বরান্বিত করতে বলো না। পবিত্র তিনি এবং এরা যে শিরক করছে তার ঊর্ধ্বে তিনি অবস্থান করেন।
পয়েন্টঃসুরা আন্-নহলের প্রথম আয়াতে আবার আল্লাহ্ কে প্রথম পুুরুষে ব্যবহার করা হয়েছে।অথচ এর আগের সুরার শেষ ৬ টি আয়াতে আল্লাহ্ ছিলেন উত্তম্ পুরুষ!বাহ্ বাহ্
এখন একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে,সুরাঃআল-হিজরের পরের সুরাটি কি সুরাঃআন্-নহল?যদি না হয় তাহলে কুরআন সঠিকভাবে সংকলন করা হয় নি।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
"কুরআন" কোন সর্বজ্ঞ এবং সর্বশক্তিমান স্রষ্টার গ্রন্থ নয়।
নমস্তে,
"সত্যমেব জয়তে"
★ISDPA★







No comments:
Post a Comment