Thursday, 29 February 2024

"ইন্দ্র দ্বারা পর্বত নাশ" এ কথার প্রকৃত রহস্য উম্মোচন

 



"ইন্দ্র দ্বারা পর্বত নাশ" -উক্তিটির প্রকৃত রহস্য উম্মোচন!

ঋগ্বেদ (১.৩২.১) মন্ত্রে আমরা ইন্দ্র কতৃক পর্বত নাশের কথা দেখতে পাই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই পর্বত কি পৃথিবীপৃষ্ঠে থাকা হিমালয়, এভারেস্ট এজাতীয় পর্বতমালাকে বোঝাচ্ছে? আর ইন্দ্র বলতে কি পুরাণকাহিনীতে বর্ণিত স্বর্গের দেবতা ইন্দ্রকে বোঝানো হচ্ছে? উত্তর হচ্ছে, না। বেদে কোনো ব্যক্তি বিশেষের ইতিহাস থাকে না যেটা বলা হয়েছে মীমাংসা দর্শন (১.১.৩১) এ। 



বৈদিক শাস্ত্রে পর্বত শব্দটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। নিঘন্টু (১.১০) এ বলা হয়েছে - পর্বত হলো মেঘের নাম।



 আধিদৈবিক পক্ষে ইন্দ্র শব্দে সূর্য, বিদ্যুৎ ইত্যাদি বোঝানো হয়। তাই ইন্দ্র দ্বারা পর্বত নাশ বলতে বোঝায় সূর্য কতৃক মেঘকে বিদীর্ণ করে বৃষ্টির সৃষ্টি।

পণ্ডিত জয়দেবশর্মাজীও "ইন্দ্র" শব্দের অর্থ বায়ু এবং বিদ্যুৎ করেছেন এবং "পর্বতানাম্" শব্দের অর্থ পর্বত এবং মেঘ করেছেন।



 আবার হরফ প্রকাশনীর সামবেদ ১২৪৭ নং মন্ত্রে ইন্দ্র = সূর্য বা বিদ্যুৎ - গ্রহণ করা হয়েছে।। 




ঋগ্বেদ (১.৩২.১) মন্ত্রটি দেখা যাকঃ-


ও৩ম্ ইন্দ্রস্য নু বীর্য়াণি প্র বোচং য়ানি চকার প্রথমানি বজ্রী। অহন্নহিমন্বপস্তর্দ প্র বক্ষণা অভিনত্ পর্বতানাম্।।১।।

পদার্থঃ হে বিদ্বান মনুষ্য! তোমরা যেমন (ইন্দ্রস্য) সূর্যের (য়ানি) যে (প্রথমানি) প্রসিদ্ধ (বীর্য়্যাণি) পরাক্রমকে বলে, তাহাকে আমিও (নু প্রবোচম্) দ্রুত বলিব, যেরূপ সে (বজ্রী) সমস্ত পদার্থের ছেদনকারী কিরণ দ্বারা যুক্ত সূর্য (অহিম্) মেঘকে (অহন্) হরণ করিয়া বর্ষণ করেন ওই মেঘের অবয়ব রূপ (যে প্রকার জল কণা নিম্নে-উর্ধ্বে (চকার) করেন, তাহাকে (ততর্দ) পৃথিবীতে পতিত করেন এবং (পর্বতানাম্) ওই মেঘ ও মেঘের সন্নিহিত হইতে (প্রবক্ষাণঃ) নদীকে ছিন্ন-ভিন্ন করিয়া প্রবাহিত করে। ঐরূপ (অভিনত্) আমি শত্রুকে মারিব, তাহার এদিক-ওদিক ছুড়ে ফেলিব এবং তাহার তথা দূর্গ আদি স্থান হইতে যুদ্ধ করিবার জন্য আসন্ন সেনাকে ছিন্ন-ভিন্ন করিব।।১।।

ভাবার্থঃ এই মন্ত্রে উপমালঙ্কার আছে। ঈশ্বরের উৎপন্নকৃত এই অগ্নিময় সূর্য্যলোক যেরূপ নিজের স্বভাবিক গুণযুক্ত অন্নাদি, প্রকাশ, আকর্ষণ, দাহ, ছেদন এবং বর্ষার উপত্তির নিমিত্ত কার্যকে দিন রাত করেন, ঐরূপ যে প্রজার পালনে তৎপর রাজপুরুষ আছে, তাহাকেও নিত্য করা উচিত।।১


ভাষ্যকারঃ মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী





প্রমাণ -

 ১. পর্বত ইতি মেঘনামসু পঠিতম (নিঘ০ ১.১০)

২. অহিরিতি মেঘনামসু পঠিতম্। (নিঘ০ ১.১০)


বেদে এভাবেই উপমাবাচী যুদ্ধের কথা বর্ণনা করার মাধ্যমে প্রাকৃতিক বা আধ্যাত্মিক তত্ত্বকে তুলে ধরেন।

 যা মহর্ষি যাস্ক তার নিরুক্তে নির্বচন করেছেন -

অপাং চ জ্যোতিষশ্চ মিশ্রীভাবকর্ম জায়তে ত্রোপমার্থেন যুদ্ধবর্ণা ভবস্ত্যহিবত্তু খলু মন্ত্রবর্ণাব্রা হ্মণবাদাশ্চ বিবৃদ্ধ্যা শরীরস্য স্রোতাংসি নিবারয়াঞ্চকার তস্মিন্ হতে প্রসস্যন্দিরে আপস্তদভিবাদিন্যেষর্গ্ ভবতি।।১০।।

নিরুক্ত (২.১৬.১০)

অর্থাৎ বৃত্র মেঘ ব্যতীত আর কিছুই নহে - নিরুক্তকারগণের এই মতই সমীচীন বলিয়া মনে করেন। প্রশ্ন হইতে পাড়ে বৃত্র যদি মেঘ হয়, তাহা হইলে বৃত্রের সহিত ইন্দ্রের যে বর্ণনা তাহা রূপকমাত্র। মেঘরূপী জল ও বিদ্যুতের মেলন বা সংঘর্ষ হইতে বৃষ্টি উৎপন্ন হয় - মেঘরূপী জল অর্থাৎ মেঘই বৃত্র এবং বিদ্যুতই ইন্দ্র ; মেঘ এবং বিদ্যুতের সংঘর্ষই বৃত্র এবং ইন্দ্রের যুদ্ধ।।



১. "বৃত্রঃ ইতি মেঘনাম" (নিঘন্টু ১.১০)



★বেদের এই তথ্যটিকেই হয়তো পরবর্তীতে পুরাণ কাহিনীতে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়েছে যেমনঃ পুরাকালে পর্বতসমূহ পাখির মতো উড়ে বেড়াত (কারণ মেঘ যেহেতু পাখির মতো আকাশে ভেসে বেড়ায়) ও ইন্দ্র সেগুলোর পক্ষচ্ছেদ করেন এরূপ। 

★★ রামায়ণে প্রক্ষেপ আছে। রামায়ণের প্রক্ষিপ্ততা নিয়ে পরবর্তী কোনো পর্বে আলোচনা করবো।। 


নমস্কার,

"সত্যমেব জয়তে"

★ISDPA★





No comments:

Post a Comment

Mrichachhakam DR SRI NIBAS SASTRI