Wednesday, 14 February 2024

বেদে কি সাধারণ মনুষ্যদের গোমূত্র পানের বিধান দেওয়া হয়েছে?



  বেদে কি সাধারণ মনুষ্যদের গোমূত্র পানের বিধান দেওয়া হয়েছে?

ঋগ্বেদ (১০/৮৭/১৮) মন্ত্রে কি সাধারণ মনুষ্যদের গোমূত্র পানের বিধান দেওয়া হয়েছে? 


একদল স্বল্পজ্ঞানী বিধর্মীর দাবি ঋগ্বেদের উক্ত মন্ত্রে সাধারণ মনুষ্যদের গোমূত্র পানের কথা বলা হয়েছে। আসুন তাদের এরূপ ভুল ধারণার নিবারণ করা যাক। ঋগ্বেদের ১০ম মণ্ডলের ৮৭ নং সূক্তের মন্ত্রগুলোতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যেসকল অত্যাচারীরা বা যাতনাধারকেরা মানুষ হত্যা করে, অশ্বদিগকে হত্যা করে, গো আদি পশুকে হত্যা করিয়া তাদের মাংস ভক্ষণ করে নিজের শরীর পুষ্ট করে পাশাপাশি গাভীর দুগ্ধ হরণ করে, দূষণ ও নষ্ট করে তাদেরকে গাভীর দুগ্ধ নয় বরং গাভীর মূত্র তথা বিষ ভক্ষণ করতে বলেছে। আর যারা অত্যাচারী নয়, মানুষ, অশ্ব ও গো আদি পশুকে হত্যা করে না, গাভীর দুগ্ধ নষ্ট করে না তাদের গাভীর উত্তম দুগ্ধ পান করতে বলেছে। ঋগ্বেদ ১০ মণ্ডল ৮৭ তম সূক্তের ১৫ থেকে ২০ নং মন্ত্রের অনুবাদ তুলে দেওয়া হলো অপপ্রচারকদের উপস্থাপিত স্বামী ব্রহ্মমুনি পরিব্রাজক জীর ভাষ্য হতে -

প্রথমেই সুক্তের ১নং মন্ত্রটি দেখা প্রয়োজন।

🔰 ঋগ্বেদ (১০/৮৭/১)

সূক্তটির‌ বিষয়‌ বস্তু‌: এই সূক্তে রাষ্ট্রধ্বংসক শত্রুদের তথা প্রজাপীড়কদের বিবিধ অস্ত্র-শস্ত্রের দ্বারা নাশ করার বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। 

রক্ষোহণং বাজিনমা জিঘর্মি মিত্রং প্রথিষ্ঠমুপ যামি শর্ম। 

শিশানো অগ্নিঃ ক্রতুভিঃ সমিদ্ধঃ স নো দিবা স রিষঃ পাত নক্তম্।।১।।

পদার্থঃ (রক্ষোহণং বাজিনম) যার থেকে রক্ষা করা উচিত, সেই রাক্ষস স্বভাবযুক্ত পাপী শত্রুকে যে হত্যা করে, সেই বলবান (মিত্রং প্রথিষ্ঠং জিঘর্মি) অস্ত্রপ্রেরক অতিশক্তিপ্রসারক আগ্নেয়াস্ত্রযুক্তকে আমি রাজা দীপ্ত করেছি, প্রবুদ্ধ  করেছি‌, জ্ঞনোপদেশ‌ প্রদান‌ করছি‌ (শর্ম-উপ যামি) এরূপ করে সুখকে প্রাপ্ত হই (সঃ) সেই (শিশানঃ-অগ্নিঃ) তীক্ষ্ণ বলবিশিষ্ট অগ্রণী সেনানায়ক (ক্রতুভিঃ-সমিদ্ধঃ) যিনি বিবিধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োগের দ্বারা সংসিদ্ধ (নঃ) আমাদের (সঃ-রিষঃ-দিবানক্তং পাতু) সেই হিংসক শত্রু হতে দিন-রাত রক্ষা করার মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখুক।।১।।

ভাবার্থঃ রাজার এমন সেনানায়ক তৈরি করা উচিত, যে শত্রুকে দমন ও বধ করতে পূর্ণ সমর্থ আগ্নেয়াস্ত্র প্রভৃতি চালনাকারী হয়।

এবার এই সুক্তের অর্থাৎ (১০/৮৭) সুক্তের (১৫-২০) নং মন্ত্র পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দেখা যাক—

🔰 ঋগ্বেদ (১০/৮৭/১৫)

পরাদ্য দেবা বৃজিনং শৃণন্তৃ প্রত্যগেনং শপথা যন্তু তৃষ্টাঃ।

বাচাস্তেনং শরব ঋচ্ছন্ত মর্মন্বিশ্বস্যৈতু প্রসিতিং যাতুধানঃ।।১৫।।

পদার্থঃ (দেবাঃ) বিজয়াভিলাষী যুদ্ধকুশল স্বপক্ষীয় সৈনিকজন বা বৈদ্যুতিক রশ্মি পদার্থ অস্ত্রপ্রযুক্ত (বৃজিনম্-অদ্য পরা শৃণন্তু) অন্যদের প্রাণসংহারকারী পাপীদেরকে শীঘ্রই নষ্ট করো (তৃষ্টাঃ-শপথাঃ-এনং প্রত্যক্-এতু) প্রাণপোষক অহিতকর প্রলাপ ঐ পাপীর দিকেই গমন করুক বা তাকেই আঘাত করুক (শরবঃ) হিংসক বাণ (বাচা স্তেনং-মর্মন্-ঋচ্ছন্তু) বাণীর দ্বারা অপহরণকর্তার মর্মস্থান প্রাপ্ত হোক (যাতুধানঃ-বিশ্বস্য প্রসিতিম্-এতু) অত্যাচারী সমগ্র রাষ্ট্রের বন্ধনকে প্রাপ্ত হোক।।১৫।।

ভাবার্থঃ সৈনিকজন বা অস্ত্রে প্রযুক্ত বিদ্যুৎ আদি পদার্থ পাপীকে নষ্ট করুক, অপরের প্রতি [উচ্চারিত] মর্মভেদী অপশব্দ উল্টো তাকেই নাশ করুক, সমগ্র রাষ্ট্রের পীড়াদায়ক বন্ধনে তাকে পতিত করা হোক৷।১৫।।


🔰 ঋগ্বেদ (১০/৮৭/১৬)


যঃ পৌরুষেয়েণ ক্রবিষা সমংক্তে যো অশ্ব্যেন পশুনন যাতুধানঃ।

যো অঘ্ন্যায়া ভরতি ক্ষীরমগ্নে তেষাং শীর্ষাণি হরসাপি বৃশ্চ।।১৬।।

পদার্থঃ (অগ্নে) হে তেজস্বী নায়ক! (যঃ-যাতুধানঃ) যেসকল অত্যাচারী দুষ্ট প্রাণী (পৌরুষেয়েণ ক্রবিষা) মানুষের অভ্যন্তরীণ মাংসের দ্বারা (সমঙক্তে) নিজেকে পুষ্ট করে (যঃ-অশ্ব্যেন পশুনা) যে পশুদের মধ্যে সাধু পশুদের দ্বারা নিজেকে সম্যক পুষ্ট করে (যঃ-অঘ্ন্যায়াঃ ক্ষীরং ভরতি) যে অহন্তব্য বা হত্যার অযোগ্য গাভীর দুগ্ধ হরণ করে-দূষিত করে (তেষাং শীর্ষাণি হরসা বৃশ্চ) তাহার  মস্তককে বা তাহার মস্তকতূল্য বর্তমান প্রমুখজনদিগকে হরণকারক অস্ত্র-শস্ত্র সাধন দ্বারা ছিন্নভিন্ন করো, নষ্ট করো।।১৬।।

ভাবার্থঃ তেজস্বী নায়কের উচিত রাষ্ট্রতে, যে পীড়া প্রদানকারী প্রাণী মানুষের মাংস ভক্ষণ করে নিজেকে পুষ্ট করে বা উত্তম অশ্বদের নষ্ট করে, গাভীর দুগ্ধ হরণ করে, দূষিত করে, তাদের মস্তক এবং তার প্রমুখজনদেরকে নষ্ট করো ।।১৬।।


🔰ঋগ্বেদ (১০/৮৭/১৭)


সংবৎসরীণং পয় উস্রিয়ায়াস্তস্য মাশীদাত্যাতুধানো নৃচক্ষঃ।

পীয়ুষমগ্নে যতমস্তিতৃপ্সাত্তং প্রত্যঞ্চমর্চিষা বিধ্য মর্মন্।।১৭।।

পদার্থঃ (নৃচক্ষঃ-অগ্নে) হে মনুষ্যের কর্মদ্রষ্টা নায়ক! (যাতুধানঃ) পীড়াদায়ক দুষ্ট মনুষ্য (উস্রিয়ায়াঃ-সংবৎসরীণং তস্য পয়ঃ) গাভীর সেই দুগ্ধকে বর্ষপর্যন্ত-পুরো বর্ষ জুড়ে (মা-অশীৎ) যেন পান করতে না পারে, এরূপ দণ্ড তাকে দেও (পীয়ুষং যতমঃ-তিতৃপ্সাৎ) সেই অমৃতরূপ দুগ্ধের দ্বারা যে [পীড়াদায়ক মনুষ্য] নিজেকে পুষ্ট করতে প্রয়াসী হয়, (তং প্রত্যঞ্চম্) তাকে সকলের প্রত্যক্ষ-সম্মুখে (অর্চিষা মর্মন্ বিধ্য) জ্বলন্ত শিখাদ্বারা তার মর্ম বিদ্ধ করে-তাড়িত করো।।১৭।।

ভাবার্থঃ সকলের আচার-ব্যবহার রূপ কর্মের দ্রষ্টা নায়ক যেন পীড়াদায়ককে গাভীর দুগ্ধ বর্ষপর্যন্ত পান করতে না দেয়। যে সেই অমৃতরূপ দুগ্ধ পান করে নিজেকে তৃপ্ত করতে আকাঙ্ক্ষা করে, সেই পীড়কজনদের অন্যসকলের সম্মুখে তীক্ষ্ণ অস্ত্র দ্বারা যেন তাড়িত করে।।১৭।।


🔰 ঋগ্বেদ (১০/৮৭/১৮)


বিষং গবাং যাতুধানাঃ পিবন্ত্বা বৃশ্চ্যন্তামদিতয়ে দুরেবাঃ।

পরৈনান্দেবঃ সবিতা দদাতু পরা ভাগমোষধীনাং জয়ন্তাম।।১৮।।

পদার্থঃ (যাতুধানাঃ) অত্যাচারী (গবাং বিষং পিবন্তু) গো আদি পশুর দুগ্ধ পান করবে না, কিন্তু মূত্র  পান করবে (অদিতয়ে দুরেবাঃ) মাতা-ভগিনীর প্রতি অত্যাচারীর (পরৈঃ-বৃশ্চ্যন্তাম্) ওপর প্রহার দ্বারা ছিন্নভিন্ন করা হোক (দেবঃ-সবিতা-এনান্ পরা দদাতু) রাজা এদের দণ্ডদাতাদের নিকট প্রদান করুক (ঔষধীনাং ভাগং পরা জয়ন্তু) ঔষধিসমূহের অংশকে প্রাপ্ত হোক, অন্য কিছু নয়।।১৮।।

ভাবার্থঃ পীড়া প্রদানকারীকে গাভীর দুগ্ধ যেন প্রদান করা না হয় তাদেল কেবল অন্ন প্রাপ্ত হোক এবং প্রহারপূর্বক শাস্তি যেন পায়।।১৮।।


🔰 ঋগ্বেদ (১০/৮৭/১৯) 


সনাদগ্নে মৃণসি যাতুধানান্ন ত্বা রক্ষাংসি পৃতনাসু জিগ্যুঃ।

অনু দহ সহমুরান ক্রব্যাদো মা তে হেত্যা মুক্ষত দৈব্যায়াঃ।।১৯।।

পদার্থঃ (অগ্নে) হে তেজস্বী নায়ক! (যাতুধানান্) অত্যাচারীদিগকে (সনাৎ-মৃণসি) সর্বদাই তুমি হিংসা করো (রক্ষাংসি ত্বা পৃতনাসু ন জিগ্যুঃ) দুষ্ট রাক্ষসগণ যেন  সংগ্রামে তোমার ওপর জয়ী না হয় (ক্রব্যাদঃ সমুরান্-অনুদহ) মাংসভক্ষকদিগকে সমূলে ধ্বংস করো (তে দৈব্যায়াঃ-হেত্যা মা মুক্ষত) তোমার বিদ্যুৎ দ্বারা যুক্ত প্রহার-শক্তি থেকে তারা যেন মুক্তি লাভ না করে।।১৯।।

ভাবার্থঃ সেনানায়ক এমন হওয়া উচিত, সংগ্রামে  শত্রুজন যেন তাদের ওপর জয়ী না হতে পাড়ে এবং এমন বৈদ্যুতিক অস্ত্র যেন চালনাকারী হয়, যার থেকে কেউ না রক্ষা পেতে পাড়ে।।১৯।।


🔰ঋগ্বেদ (১০/৮৭/২০)


ত্বং নো অগ্নে অধরাদুদক্তাত্তবং পশ্চাদুত রক্ষা পুরস্তাৎ।

প্রতি তে তে অজরাসস্তপিষ্ঠা অবশংসং শোশুচতো দহন্তু।।২০।।

পদার্থঃ (অগ্নে) হে তেজস্বী নায়ক! (ত্বং নঃ) তুমি আমাদের (অধরাৎ) দক্ষিণ দিশা হতে (উদক্তাৎ) উত্তর দিশা হতে (ত্বং) তুমি (পশ্চাৎ) পশ্চিমদিশা হতে (উত) এবং (পুরস্তাৎ) পূর্ব দিশা হতে (রক্ষ) সুরক্ষিত করো (তে) তোমার (তে-অজরাসঃ) সেই জীর্ণতারহিত স্থির (তপিষ্ঠাঃ) অতি উত্তপ্ত (শোশুচতঃ) দেদীপ্যমান প্রহার (অঘশংসং দহন্তু) যেন পাপের প্রশংসাকারী, পাপী শত্রুকে দগ্ধ করে।।২০।।

ভাবার্থঃ সকল দিশা হতে রক্ষাকারী নায়কের উচিত তার জ্বলন্ত প্রহারের দ্বারা শত্রুকে ধ্বংস করে দেওয়া।।২০।।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

"দূর্জনের ছলের অভাব হয় না"!


ধন্যবাদ

নমস্তে সকলকে!

"সত্যমেব জয়তে" 

★ISDPA★

Tuesday, 6 February 2024

স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীকে কেন ঋষি বলা হয়?



 স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীকে  কেন ঋষি বলা হয়?

একটি সমীক্ষাঃ

শাস্ত্র সম্পর্কে স্বল্পজ্ঞানী কিছু ব্যক্তিরা দাবি করছেন যে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীকে “ঋষি” বলা যাবে না।

সত্যিই কি তাই!

আজকে এই বিষয়ে আলোকপাত করা যাক।

প্রথমে বেদভাষ্যকারদের বেদভাষ্য থেকে দেখে আসি।

★আচার্য্য উব্বট তার শুক্লযজুর্বেদ ভাষ্যের (৭/৪৬) এ লিখেছেন, “ঋষিমন্ত্রাণাম্ ব্যাখ্যাতা” অর্থাৎ ঋষি মন্ত্রের ব্যাখ্যাকর্তা।


★★একই মন্ত্রের ভাষ্য করতে গিয়ে মহিধরও লিখেছেন,”ঋষিম্ মন্ত্রাণাম্ ব্যাখ্যাতারম্” অর্থাৎ ঋষিগণ মন্ত্রের ব্যাখ্যাকরেন।


★★★ নিরুক্ত (১৩/১২) অনুসারে “পূর্বকালে ঋষিরা দেবতাদের জিজ্ঞাসা করলেন আমাদের মধ্যে কারা ঋষি হবে?তাদের দেবতারা বললেন “তর্কই ঋষি” অর্থাৎ মন্ত্রার্থ বিচার করার জন্য যিনি বা যাহারা এক পূর্ণ দেবজ্ঞ(উত্তম গুণ সম্পন্ন) তর্ক করেন তাহারাই আর্ষ বা ঋষি হন।”


★★★★আবার বৌধায়ন গৃহ্যসূত্র (১/৭/৭) এ বলা হয়েছে, “চতুর্বেদাদ্ ঋষি” অর্থাৎ যিনি চতুর্বেদ অধ্যয়ন করেছেন তিনি ঋষি।



আবার স্বামী বিবেকানন্দের মতে,

“আধ্যাত্মিক জগতের সত্য লাভ করিতে হইলে মানুষকে উহার অতীত প্রদেশে, ইন্দ্রিয়ের বাহিরে

যাইতেই হইবে । আর এখনও এমন ব্যক্তি সকল আছেন, যাহারা পঞ্চইন্দ্রিয়ের সীমার বহির্দেশে যাইতে সক্ষম ।ইহাদিগকেই ঋষি বলে কারণ, ইহারা আধ্যাত্মিক সত্য সমূহের সাক্ষাৎকার করিয়া থাকেন।"

দ্রষ্টব্যঃভারতে বিবেকানন্দ,ভারতীয় মহাপুরুষগণ,পৃষ্ঠাঃ(১৬৭-১৬৮)


শুধু তাই নয়,তিনি আরও বলেছেন-

“বন্ধুগণ, যতদিন না তোমাদের প্রত্যেকেই ঋষি হইতেছ,যতদিন না আধ্যাত্মিক সত্য সাক্ষাৎকার করিতেছ। ততদিন তোমাদের ধর্মজীবন আরম্ভ হয় নাই জানিবে।”

দ্রষ্টব্যঃভারতে বিবেকানন্দ,ভারতীয় মহাপুরুষগণ,পৃষ্ঠাঃ১৬৮।



আধুনিক ভারতের দিকে তাকালে দেখা যায় মহাত্মা  অরবিন্দকেও ঋষি বলা হয় আবার তিনি তার "বঙ্কিম-তিলক-দয়ানন্দ" গ্রন্থে  সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রকেও ঋষি বলেছেন এবং মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর কাজ সম্পর্কে অনেক কিছুই বর্ণনা করেছেন।


বিচারঃ উপরোক্ত প্রমাণাদি হইতে সিদ্ধ হইতেছে যে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীকে “ঋষি” বলা সম্পূর্ণই সংগত।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

বেদমন্ত্রের দ্রষ্টা না হওয়া সত্ত্বেও মহর্ষি বাল্মীকি এবং মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ণ (বেদব্যাস) কেও ঋষি বলা হয়।

সত্যমেব জয়তে

★ISDPA★

Tuesday, 30 January 2024

নবীর আত্মহত্যার চেষ্টা এবং বিভ্রমের সত্যতা

 


"নবীর আত্মহত্যার চেষ্টা এবং বিভ্রমের সত্যতা"!

নবীর কাছে ওহী আসতো এটি চরম একটি মিথ্যা কথা।এটি মূলত ছিল "নবীর বিভ্রম"!এটি হাদীস্ থেকেই প্রমাণ করবো।

চলুন আজকে এই বিষয়টিই জানা যাক!

সম্পূর্ণ লেখাটা পড়ার অনুরোধ রইল।

 عقيل

عن ابن شهاب ،. وحدثني عبد الله بن محمد ،

حدثنا عبد الرزاق ، حدثنا معمر ، قال الزهري

فأخبرني عروة ، عن عائشة ـ رضى الله عنها ـ أنها

قالت أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه

وسلم من الوحي الرؤيا الصادقة في النوم ، فكان لا

يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح ، فكان يأتي

جراء فيتحنث فيه ـ وهو التعبد ـ الليالي ذوات

العدد ، ويتزود لذلك ثم يرجع إلى خديجة فتزوده

لمثلها ، حتّى فجئه الحق وهو في غار حراء فجاءه

الملك فيه فقال اقرأ. فقال له النبي صلى الله عليه

فقلت ما أنا بقارئ فأخذني فغطني حتّى

وسلم

بلغ مني الجهد ثم أرسلني. فقال اقرأ، فقلت ما أنا

بقارئ. فأخذني فغطني الثانية حتى بلغ مني الجهد

ثم أرسلني فقال اقرأ، فقلت ما أنا بقارئ، فغطني

الثالثة حتى بلغ مني الجهد ، ثم أرسلني فقال اقرأ

يعلم}

فرجع بها ترجف بوادره حتى دخل على خديجة فقال

" زملوني زملوني ". فزملوه حتى ذهب عنه الروع

فقال " يا خديجة ما لي ". وأخبرها الخبر وقال

قد خشيت على نفسى ". فقالت له كلا أبشر ،

فوالله لا يخزيك الله أبدا ، إنك لتصل الرحم ،

وتصدق الحديث ، وتحمل الكل ، وتقرى الضيف .

وتعين على نوايب الحق. ثم انطلقت به خديجة حتّى

أتت به ورقة بن نوفل بن أسد بن عبد العزى بن

قضي ـ وهو ابن عم خديجة أخو أبيها ، وكان امراً

تنصر في الجاهلية ، وكان يكتب الكتاب العربي

فيكتب بالعربية من الإنجيل ما شاء الله أن

يكتب ، وكان شيخا كبيرا قد عمي ـ فقالت له

خديجة أي ابن عم اسمع من ابن أخيك. فقال ورقة

ابن أخي ماذا ترى فأخبره النّبي صلى الله عليه

وسلم ما رأى فقال ورقة هذا الناموس الذي أنزل

على موسى ، يا ليتني فيها جذعا أكون حيا ، حين

يخرجك قومك. فقال رسول الله صلى الله عليه

وسلم" أومخرجي هم ". فقال ورقة نعم ، لم يأت

رجل قط بما جئت به إلا عودي ، وإن يدركني

يومك أنصرك نصرا مؤزرا. ثم لم ينشب ورقة أن

توفي، وفتر الوحي فترة حتّى حزن النبي صلى الله

عليه وسلم فيما بلغنا حزنا غدا منه مرارا گی

يتردى من رءوس شواهق الجبال ، فكلما أوفى بذروة

جبل لكن يلقى منه نفسه ، تبدى له جبريل فقال يا

محمد إنك رسول الله حقا. فيسكن لذلك جأشه

وتقر نفسه فيرجع ، فإذا طالت عليه فترة الوحي

غدا لمثل ذلك ، فإذا أوفى بذروة جبل تبدى له

جبريل فقال له مثل ذلك. قال ابن عباس {فالق

الإصباح ضوء الشمس بالنّهار، وضوء القمر

بالليل.

অনুবাদঃআয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত:তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওয়াহীর শুরু হয় ঘুমের ঘোরে ভালো স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা ভোরের আলোর মত উদ্ভাসিত হতো।তিনি হেরা গুহায় গিয়ে সেখানে বেশ কয়েক রাত ‘ইবাদাতে কাটিয়ে দিতেন এবং এজন্য খাদ্য দ্রব্যও সঙ্গে নিয়ে যেতেন।এরপর খাদীজাহ (রাঃ)-এর কাছে ফিরে আসতেন এবং তিনি তাকে এরূপ খাদ্য দ্রব্য তৈরি করে দিতেন। শেষে তাঁর কাছে সত্যের বাণী (ওয়াহী) আসল। আর এ সময় তিনি হেরা গুহায় ছিলেন।সেখানে ফেরেশতা এসে তাঁকে বলল, আপনি পড়ুন,রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 

আমিবললামঃ আমি তো পাঠক নই। তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে চেপে ধরলেন। এমনকি এতে আমার খুব কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন,আপনি পড়ুন। আমি বললাম, আমি পাঠক নই। তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে শক্ত করে চেপে ধরলেন। এবারেও এতে আমার খুব কষ্ট হল। অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, আপনি পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পাঠক নই।এরপর তিনি তৃতীয়বার আমাকে শক্ত করে এমন চেপে ধরলেন যে, এবারেও এতে আমার খুব কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পাঠ করুন, আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন......যা সে জানত না(সূরাহ আল-ইনশিরাহ ৯৪/১-৫) এ আয়াত পর্যন্ত।এরপর তিনি তা নিয়ে খাদীজাহ (রাঃ)-এর কাছে কম্পিত হৃদয়ে ফিরে এলেন। আর বললেন, আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও। আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও। ফলে তাঁরা তাঁকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তাঁর থেকে ভীতি দূর হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, হে খাদীজাহ! আমার কী হল? এবং তাকে সমস্ত ঘটনা জানালেন। আর বললেনঃআমি আমার জীবন সম্পর্কে শঙ্কাবোধ করছি। খাদীজাহ

(রাঃ) তাকে বললেন, কখনো না। আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর কসম, আল্লাহ্ আপনাকে কখনই লাঞ্ছিত করবেন না। কেননা, আপনি তো আত্মীয়তার বন্ধন জুড়ে রাখেন, সত্যকথা বলেন, অনাথ অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, মেহমানদের মেহমানদারী করেন এবং হকের পথে আগত যাবতীয় বিপদে সাহায্য করেন। অতপর খাদীজাহ (রাঃ) তাঁকে নিয়ে চললেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে ওরাকা ইবনু নাওফল ইবনু আসাদ ইবনু ‘আবদুল উযযা ইবনু কুসাই-এর কাছে এলেন। আর তিনি, খাজীদাহ (রাঃ)-এর চাচার পুত্র (চাচাত ভাই) এবং তার পিতার পক্ষ থেকে চাচাও ছিলেন। তিনি জাহিলীয়াতের যুগে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।তিনি আরবী কিতাব লিখতেন। তাই সে ইন্জীল আরবীতে অনুবাদ করতেন- যতখানি লেখা আল্লাহর মনযুর হত। তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ, দৃষ্টিশক্তিহীন লোক। খাদীজাহ (রাঃ) তাকে বললেন, হে আমার চাচাতো ভাই! তোমার ভাতিজার কথা শুন। তখন ওরাকা বললেন, হে ভাতিজা! তুমি কী দেখেছ?নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু দেখেছিলেন তা তাকে জানালেন। তখন ওরাকা বললেন, এতো আল্লাহর সেই নামুস (দূত) যাঁকে মূসা (আঃ)-এর কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। হায় আফসোস! যদি সেদিন আমি জীবিত থাকতাম যেদিন তোমার কাওম তোমাকে বের করে দেবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা কি আমাকে বের করে দেবে? ওরাকা বললেন, হ্যাঁ তুমি যা নিয়ে এসেছ,এমন বস্তু নিয়ে কোনদিনই কেউ আসেনি যার সঙ্গে শত্রুতা করা হয়নি। যদি তোমার জীবনকাল আমাকে পায়, তাহলে আমি সর্বতোভাবে তোমাকে সাহায্য করব। এরপর কিছুদিনের মধ্যেই ওরাকার মৃত্যু হয়। আর কিছু দিনের জন্য ওয়াহীও বন্ধ থাকে। এমনকি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থার কারণে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন।এমনকি আমরা এ সম্পর্কে তার থেকে জানতে পেরেছি যে,তিনি পর্বতের চূড়া থেকে নিচে পড়ে যাবার জন্য একাধিকবার দ্রুত সেখানে চলে গেছেন। যখনই নিজেকে ফেলে দেয়ার জন্য পর্বতের চূড়া থেকে নিচে পড়ে যাবার জন্য একাধিকবার দ্রুত সেখানে চলে গেছেন। যখনই নিজেকে ফেলে দেয়ার জন্য পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন, তখনই জিব্রীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলতেন, হে মুহাম্মাদ! নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল। এতে তাঁর অস্থিরতা দূর হত এবং নিজ মনে শান্তিবোধ করতেন। তাই সেখান থেকে ফিরে আসতেন। ওয়াহী বন্ধ অবস্থা যখন তাঁর উপর দীর্ঘ হত তখনই তিনি ঐরূপ উদ্দেশে দ্রুত চলে যেতেন। যখনই তিনি পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন, তখনই জিব্রীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে আগের মত বলতেন।

তথ্যসূত্রঃসহীহ্ বুখারী,অধ্যায়ঃ৯১,হাদীস্ ৬৯৮২।(তাওহীদ্ পাবলিকেশনস্)

বিচারঃ

উপরোক্ত বিষয়টি ভালোভাবে লক্ষ্য করলে বুঝা যায় যে,জ্রিবাইল নামের কোন সত্ত্বাই ছিলনা।এটি কেবল নবীর ভ্রম ছিল।নবীর মাথায় নবী হওয়ার চিন্তা আসায় তিনি এই রকম  ভ্রমকে সবার সামনে ওহী আকারে প্রকাশ করেছেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

উপরোক্ত বিষয়টি থেকে "নবীর বিভ্রম" এর পাশাপাশি আরও একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়।নবীকে কুরআনের মনগড়া এবং কাল্পনিক কাহিনীগুলো তুলে ধরতে সাহায্য করেছিলেন ওরাকা নামের একজন ব্যক্তি।বোনাস হিসেবে এই হাদিসে আরও একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়তা হলঃ"নবীর আত্মহত্যার চেষ্টা"!


"সত্যমেব জয়তে"

ISDPA

পবিত্র বেদে গোমাংস ভক্ষণের মিথ্যাচারের খণ্ডন


 নমস্তে সকলকে,

একজন মুমিন(মূর্খ) দাবী করেছেন যে ঋগ্বেদ(১০/২৮/৩) এই মন্ত্রে নাকি গোহত্যা এবং গোমাংস ভক্ষণের কথা বলা হয়েছে!

এই বিষয়টি নিয়েই আজকের লেখা।

প্রথমে কিছু কথা বলে নেওয়া যাক!

তিনি তার প্রিয় ভাষ্যকারের বেদভাষ্য মেনেই এই দাবী করেছেন,যার সংস্কৃত বিষয়ে কিছু মুখস্ত বিদ্যায় কেবল আছে।বেদমন্ত্রের ভাষ্য করতে হলে ভাবশৈলী,ভাষাশৈলী,বিষয়(দেবতা) ইত্যাদি বিষয় লক্ষণীয় আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বেদাঙ্গের ব্যবহার।

অনুরোধঃলেখাটি সম্পূর্ণ পড়বেন।

তার লেখা পোষ্টটি দেখা যাক,



তিনি যে রেফারেন্স দিয়েছেন সেইগুলোও বিচার করা হবে।

রেফারেন্সগুলো দেখে আসি—

★(১) মন্ত্রঃপচস্তি তে বৃষভা অৎসি তেষাম।ঋগ্বেদ(১০/২৮/৩)

★(২)পচস্তি=রান্না করা।নিরুক্ত(১/১/১/১২)

★(৩)তে=তাহারা।নিরুক্ত(১/১/৪/২)

★(৪)বৃষভা=ষাঁড় গরু।নিরুক্ত(৯/২২/১;৯/২৩/১,৫)

★(৫)বৃষস্যতি গৌ।অষ্টাধ্যায়ী(৭/১/৫১)

★(৬)অষ্টাধ্যায়ীর "গৌ" মানে গরু।নিরুক্ত(১/১/১/১৫)


★(১)—মন্ত্রঃপচস্তি তে বৃষভা অৎসি তেষাম।ঋগ্বেদ(১০/২৮/৩)

উক্ত মন্ত্রে গোমাংস ভক্ষণের কথা বলা হয়েছে।


সমাধানঃ

 মূল মন্ত্রটি দেখা যাক,

অদ্রি॑ণা তে ম॒ন্দিন॑ ইন্দ্র॒ তূয়া॑ন্ত্সু॒ন্বন্তি॒ সোমা॒ন্পিব॑সি॒ ত্বমে॑ষাম্ । 

পচ॑ন্তি তে বৃষ॒ভাঁ অৎসি॒ তেষাং॑ পৃ॒ক্ষেণ॒ যন্ম॑ঘবন্হূ॒য়মা॑নঃ ॥

সংস্কৃতঃ—

পদার্থঃ(ইন্দ্র)হে আত্মন্!রাজন্!বা(তে)তুভ্যম্ (অদ্রীণা) শ্লোককৃতা প্রশংসকেন বৈদ্যেন পুরহিতেন বা প্রেরিতা অদ্রিরসি শ্লোককৃৎ{কাঠ.(১/৫)} (মন্দিনঃ) তব হর্ষযিতারঃ পারিবারিকা জনা রাজজর্মচারিনো বা (তুয়াৎ সোমান্ সুন্বন্তি) জলময়ান্ রসময়ান্ "তুযম্ উদকনাম"{নিঘ.(১/১২)} সোমরসান্ সম্পাদয়ন্তি (তেষাম্ ত্বম্ পিবসি) তান্ ত্বম্ পিবেঃ লিঙর্থে লেট্{অষ্টাধ্যায়ী(৩/৪/৭)} অথ (তে) তুভ্যম্ (বৃষভান্ পচন্তি) সুখরসবর্ষকান্ বৃষভঃ যো বর্ষতি সুখানি সঃ{ঋগ্বেদ(১/৩১/৫)} বৃষভঃ বর্ষিতাঽপাম্{নিরুক্ত(৩/৮)} সম্পাদয়ন্তি (মঘবন্) পৃক্ষেণ (হুয়মানঃ) হে আত্মন্ রাজন্!বা স্নেহসম্পর্কেণাহুয়মানো নিমন্ত্র্যমাণঃ (তেষাম্ -অৎসি) তান্ ত্বম্ (ভুঙ্ক্ষ্ব-ভুঙ্ক্ষে)॥

বাংলাঃ—

পদার্থঃ(ইন্দ্র) হে আত্মন্ বা রাজন্!(তে) আপনার জন্য (অদ্রিণা) প্রশংসিত বৈদ্য অথবা পুরোহিত দ্বারা প্রেরিত (মন্দিনঃ) আপনাকে প্রসন্ন করা পারিবারিক ব্যক্তি বা রাজকর্মচারী (তুয়াৎ সোমান্ সুন্বন্তি) রসময় সোম তৈরী করে (তেষাম্ ত্বম্ পিবসি) তাকে পান কর এবং (তে) আপনার জন্য (বৃষভান্ পচন্তি) সুখবর্ষণকারী সুখকে তৈরী করে (মধবন পৃক্ষেণ হুয়মানঃ)হে আত্মন্!বা রাজন্!স্নেহ সম্পর্ক দ্বারা নিমন্ত্রিত করা হয়েছে (তেষাম্-অৎসি) এটিকে আপনি ভোগ করুন।

ভাবার্থঃআত্মা যখন শরীরে প্রবেশ করে তখন সেটিকে অনুমোদিত করা বৈদ্য এবং প্রশংসনীয় করা পারিবারিক জন অনেক রসালো এবং ভোগ্য পদার্থ সেটির জন্য তৈরী করে এবং স্নেহভরে খাওয়া এবং পান করায়।যা দ্বারা শরীর পুষ্টির দিকে এগিয়ে যায় অর্থাৎ রাজা রাজপথে বিরজিত থাকেন।তখন তাহার প্রশংসক পুরোহিত এবং প্রসন্নকারী রাজকর্মচারী সোমাদি ঔষধির রস এবং ভোগ্যাদি তৈরী করে রাখে।সেই স্নেহ দ্বারা আদর পেয়ে উনার সেবা করে।


★★উপরোক্ত মন্ত্রটিতে জীবাত্মার শরীর ধারণের বিষয়ে  বলা হয়েছে।যা এই সুক্তের ১নং মন্ত্র থেকেই লক্ষ্যণীয়!কিন্তু মূর্খরা নিজেদের চরিতার্থ প্রকাশ করতে গিয়ে ভিন্ন অর্থ করে ফেলেছে।

তারা লিখেছেন—পচস্তি তে বৃষভা অৎসি তেষাম

★★★এটি ভূল লিখেছে,"পচন্তি" এর জায়গায় "পচস্তি" এবং "বৃষভান্" এর জায়গায় বৃষভা লিখেছে।এখানে "বৃষভাঁ" পদটি সন্ধি হওয়ার কারণে এভাবে লেখা হয়েছে,মূল পদ হবে "বৃষভান্"!

"বৃষবান্" যা কর্মকারকে ২য়া বিভক্তি বহুবচন হয়।


★(২)—"পচস্তি" এর অর্থ "রান্না করা"! নিরুক্ত(১/১/১/১২),অমরেশ্বর ঠাকুর

সমাধানঃ

যদিও এখানে " পচন্তি" হবে!অমরেশ্বর ঠাকুর কি এই সূত্রে "পচন্তি" এর অর্থ করেছেন?"পচতি" এবং "পচন্তি" "পচ্" ধাতু থেকে আসলেও এখানে বচনের পার্থক্য আছে।"পচতি" প্রথম পুরুষে একবচনে ব্যবহৃত হয় আর "পচন্তি" বহুবচনে।

★★নিরুক্ত(৬/১৬) অনুসারে দ্বিবচনে কখনো "পচত" পশু অর্থে ব্যবহৃত হবে না।



আবার অমরেশ্বর ঠাকুর উনার নিরুক্তভাষ্যে "বৃষভ" অর্থ বর্ষণকারী মেনেছেন।

দেখুনঃনিরুক্ত(৪/৮/২),অমরেশ্বর ঠাকুর


★★★ঋগ্বেদ(১০/২৮/৩,৪) নং মন্ত্রে সোমের কথাও এসেছে যার অর্থ অমরেশ্বর ঠাকুর গাভীর দুগ্ধই মেনেছেন।

দেখুনঃনিরুক্ত(৫/৩/৪),অমরেশ্বর ঠাকুর।


★৩)—"তে" অর্থ তাহারা।নিরুক্ত(১/১/৪/২)

সমাধানঃ

অমরেশ্বর ঠাকুর এখানে "তে" শব্দটি জন্মাদি শব্দবাচ্য ভাববিকারের জন্য লিখেছেন।আবার এই একই সূত্রের(যদিও নিরুক্তে খণ্ড হয়) ব্যাখ্যাতে নিজেই মেনেছেন  "পচতি" অর্থ নরম হওয়াও বোঝায়।"তে" বহুবচন হওয়ায় "পচন্তি" হবে।


★(৪)—"বৃষভা"=ষাঁড় গরু।নিরুক্ত(৯/২২/১;৯/২৩/১,৫)

সমাধানঃ

★★প্রথমেই দেখি অমরেশ্বর ঠাকুর কি লিখেছেন!

বৃষভঃ প্রাং বর্ধতীতি বাতিবৃহতি রেত ইতি বা তদ্‌ বৃষকর্ম্মা বর্ষণাৎ

বৃষভঃ ॥ ১ ॥

বৃষভঃ প্রজাং বর্ধতি ইতি বা ( প্রজার অর্থাৎ সন্তানের উৎপত্তিকারণ রেতঃ বর্ষণ করে )

অতিবৃহতি রেতঃ ইতি বা (অথবা, রেতঃসেক করিতে নিজেকে অত্যন্ত উদ্বৃত করে),

কৰ্ম্মা (এতাদৃশ বৃষের কর্মসদৃশ কর্ম্ম যাহার সেও) বর্ষণাৎ বৃষভঃ ( বর্ষণক্রিয়া হেতু

বৃষ বলিয়া অভিহিত হয়)।

অশ্বার্থক ‘বৃষভ' শব্দের নির্ব্বচন প্রণিত হইতেছে। (১) বর্ষণার্থক ‘বৃষ' ধাতু হইতে

'বৃষভ"' শব্দ নিষ্পন্ন (উ ৪.৩ দ্রষ্টবা) - অশ্ব প্রার্থ বড়বাযোনিতে রেতঃসেক করে।

(২) উত্থমনার্থক 'বৃহ' ধাতু হইতে নিষ্পন্ন -অশ্ব রেতঃসেক করিবার নিমিত্ত নিজেকে অত্যন্ত

উদ্ধৃত করে। গোবাচী ‘বৃষভ" শব্দও বর্ষণার্থক ‘বৃষ' ধাতু হইতেই নিষ্পন্ন-পুংগো (ষাঁড়)

অশ্ববৃষের ন্যায় রেতঃসেক করে, অশ্ববৃষের কর্মসদৃশ ইহার কর্ম্ম।


★★★(৯/২২/১) এর ব্যাখ্যায় তিনি কি মেনেছেন ঋগ্বেদ(১০/২৮/৩) মন্ত্রের "বৃষভ" পদের অর্থ "ষাঁড় গরু" হবে?উনি নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।যদি তা হয় তবে একই মন্ত্রে উল্লেখিত "সোম" পদটি দ্বারা তিনি গাভীর ক্ষরিত দুগ্ধকে নির্দেশ করবেন।কেন না (৫/৩/৪) এ "সোম" অর্থ তিনিই তা মেনেছেন।মান্যতা এমন হলে মূল কর্তা অর্থাৎ "তে" ধরা হয় তবে কর্তা অনুসারেই ক্রিয়া পরিবর্তীত হবে।

নিরুক্ত(৯/২৩/১) এ তিনি ঋগ্বেদ(১০/১০২/৫) এর ব্যাখ্যা করেছেন।অন্য মন্ত্রের ব্যাখ্যা ঋগ্বেদ (১০/২৮/৩) কে কেন প্রয়োগ হবে আর নিরুক্ত(৯/২৩/৫) এ "বৃষভ" পদটিই নেই আছে "গবাং" যা দ্বারা নিরুক্ত(৯/২৩/১) এ অমরেশ্বর ঠাকুর "গাভী" অর্থ করেছেন।


★(৫)—বৃষস্যতি গৌ।অষ্টাধ্যায়ী(৭/১/৫১)

সমাধানঃ

★★প্রথমেই অষ্টাধ্যায়ীর সূত্রটি দেখা যাক—



এখানে কি বলা হয়েছে তা মুমিন(মূর্খ) বুঝেছে কি না তাও সন্দেহ!


★(৬)—অষ্টাধ্যায়ীর "গৌ" মানে গরু। নিরুক্ত(১/১/১/১৫)

সমাধানঃ

★★অমরেশ্বর ঠাকুর কি এটা লিখেছেন?সূত্রে কোথায় অষ্টাধ্যায়ীর উল্লেখ আছে?

নিজেই দেখুন—




বিচারঃ

মূর্খতার একটা সীমা থাকা দরকার এক মন্ত্রের ব্যাখ্যা অন্য মন্ত্রে প্রযোজ্য তখনই হবে যখন সেটি ব্যাকরণ দ্বারা সিদ্ধ হবে।কোন জায়গায় একটা শব্দের অর্থ পেলেই সেটা বেদমন্ত্রে ব্যবহার করে ভাষ্য করে ফেললেই হয় না।


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ

আমরা অমরেশ্বর ঠাকুরের নিরুক্ত ভাষ্যকে প্রামাণ্য মানি না,কেবল মিথ্যাচারগুলো তুলে ধরার জন্য উনার ভাষ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

সত্যমেব জয়তে

ISDPA 

Wednesday, 25 October 2023

ইসলাম ও শিশুবিবাহ

          ইসলাম ও শিশু বিবাহ


ইসলামে শিশু বিবাহের বিধান পাওয়া যায় এটা আমরা শুনি। কিন্তু কেবল শুনেই যদি তাদের বলতে যাই তাহলে বলবে যে - শিশু বিবাহের কথা কুরানে নাই, জাল হাদিসে থাকতে পারে। যখন বলা হয় আয়েশাকে নবী যখন বিবাহ করে তখন তো সে শিশু ছিলো, তার বিপরীতে বলতে চায় যে ৯বছরর আয়েশার সাথে সংসার শুরু করেছে আর তখন সে যুবতী হয়ে গিয়েছিলো, শিশু ছিলনা। তখন সে কি ছিলো তা দেখানোর পূর্বে দেখে নিই যে কুরআনে শিশু বিবাহের বিধান আছে কি নেই - 

                             তাইসীরুল কুরআন

সূরাহ: আত-ত্বলাক/চতুর্থ আয়াত (কুরআন-৬৫/৪)–

তোমাদের যে সব স্ত্রীগণ মাসিক ঋতু আসার বয়স অতিক্রম করেছে তাদের (‘ইদ্দাতের) ব্যাপারে যদি তোমাদের সন্দেহ সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে তাদের ‘ইদ্দাতকাল তিন মাস, আর যারা (অল্প বয়স্কা হওয়ার কারণে) এখনও ঋতুবতী হয়নি (এ নিয়ম) তাদের জন্যও। আর গর্ভবতী স্ত্রীদের ‘ইদ্দাতকাল তাদের সন্তান প্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।


আহ্কামুল কুরআনে এর ব্যাখ্যান করা হয়েছে যে–

আহকামুল কুরআন তৃতীয় খণ্ডের ১৩১নং পেইজ

অতএব হায়য হয়নি— এমন অল্প বয়সী মেয়েকে তালাক দেয়া সহীহ্ হবে। আর তালাক তো সহীহ বিয়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে। তাই আয়াতের এ তাৎপর্য রয়েছে যে, অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেয়া সম্পূর্ণ জায়েয। তাছাড়া বাস্তব প্রমাণ হচ্ছে, রাসূলে করীম (স) হযরত আয়েশা (রা)-কে বিয়ে করেছিলেন যখন তাঁর বয়স মাত্র ছয় বছর। তাঁর পিতা হযরত আবূ বকর (রা)-ই তাঁকে বিয়ে দিয়েছিলেন। এ ঘটনার দুটি তাৎপর্য। একটি, ছোট বয়সের মেয়েকে তার পিতা বিয়ে দিতে পারে - সম্পূর্ণ জায়েয। আর দ্বিতীয় হচ্ছে, এই ছোট বয়সের মেয়ে পূর্ণবয়স্কা হয়ে সে বিয়ে রাখা-না-রাখার অধিকারিণী হবে না। তা বাধ্যতামূলক। কেননা নবী করীম (স) পূর্ণবয়স্কতা লাভের পর তাঁকে সে ইখতিয়ার দেন নি।


অর্থাৎ শিশুদের বিবাহের বিধান ইসলামে রয়েছে এবং নবী নিজেই শিশু আয়েশাকে বিবাহ করেছিলো। যদি শিশুবস্থায় বিবাহের পর শিশু যখন বড় হয়ে বুঝবে যে সেই বিবাহ তার জন্য ঠিক হয়নি এবং বিচ্ছিন্ন হতে চাইবে তাহলে সে তা পারবেনা কেননা উপরেই বলা হয়েছে – এই ছোট বয়সের মেয়ে পূর্ণবয়স্কা হয়ে সে বিয়ে রাখা-না-রাখার অধিকারিণী হবে না। তা বাধ্যতামূলক। কেননা নবী করীম (স) পূর্ণবয়স্কতা লাভের পর তাঁকে সে ইখতিয়ার দেন নি।


তর্কের এমতাবস্থায় এলে কেহ কেহ বলে - নবী আয়েশাকে ৬বছরে বিবাহ করেনি, নিকাহ করেছে আর বিবাহ করেছে ৯বছরে বয়সে।  

তাহলে নিকাহ কাকে বলে সেটাই দেখে নেয়া যাক - নিকাহ-এর সংজ্ঞা : শরীয়াতের পরিভাষায় 'নিকাহ' এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে পুরুষ ও নারীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন বৈধ হয়। (তথ্যসূত্র :ফাতওয়ায়ে আলমগীরি) প্রশ্ন রইলো নিকাহ আর বিবাহের পার্থক্য কি? 


এইবার দেখে নিই নবী ৬ আর ৯বছরে আয়েশাকে কি করেছে– 

                                সহীহ মুসলিম

৩৩৪৩.  আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : আমার ছয় বছর বয়সের সময় রাসুলুল্লাহ (সা) আমাকে বিয়ে করেছিলেন। আর আমার বয়স যখন নয় বছর তখন আমার সাথে তার বাসর রাত্রি হয়।.......... (সহীহ মুসলিম - বাংলাদেশ ইসলামি সেন্টার)

সহীহ মুসলিম

৩৩৪৪.  আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন,  আমার বয়স যখন ছয় বছর তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম আমাকে বিয়ে করেন। আর আমার বয়স যখন নয় বছর তখন তিনি আমাকে নিয়ে বাসর ঘর করেন। (সহীহ মুসলিম - বাংলাদেশ ইসলামি সেন্টার)


অর্থাৎ ৬বছরের আয়েশাকে নবী বিবাহ করেছে যা উপরে দেওয়া আহকামুল কুরআনের ব্যাখ্যানেও বলা হয়েছে, আর ৯বছরে আয়েশাকে ধর্ষণ করেছে কেননা শিশুর সাথে আবার কিসের বিবাহ! 


তর্কে এ অবস্থায় আসার পর অনেকে বলে কম বয়সে নিকাহ করা যাবে কিন্তু সহবাস করা যাবেনা। যারা এরূপ বলে তারা আসলে কুরআনের বিরোধী, কেননা (কুরআন-৬৫/৪) আয়াতে কম বয়সী মেয়েদের ইদ্দতের কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্নঃ ইদ্দত কাকে বলে?  ইদ্দতের সংজ্ঞা : হাকীকী নিকাহ বা শিরহে নিকাহ্ ভঙ্গ হয়ে যাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় কাল পর্যন্ত স্ত্রীর অপেক্ষা করা যা অপরিহার্য হয়, সহবাস অথবা- (একজনের) মৃত্যু দ্বারা এই অপেক্ষা করাকে শরী'আতে ইদ্দত বলা হয়।(তথ্যসূত্র :ফাতওয়ায়ে আলমগীরি)

তাফহীমুল কুরআনে ইদ্দত নিয়ে বলা হয়েছে–

তাফহীমুল কুরআন - সপ্তদশ খণ্ডের ২১৫ নং পৃষ্ঠা

এ ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার যে, কুরআন মজীদের স্পষ্ট বক্তব্য অনুসারে যে স্ত্রীর সাথে তার স্বামী নির্জনবাস করেছে কেবল তার ক্ষেত্রেই ইদ্দত পালনের প্রশ্ন আসে। কারণ, নির্জনবাসের পূর্বে তালাক হলে আদৌ কোন ইদ্দত পালন করতে হয় না। (আল আহযাব, ৪৯) সুতরাং যেসব মেয়েদের এখনো ঋতুস্রাব শুরু হয়নি তাদের ইদ্দত বর্ণনা করা স্পষ্টত এ কথাই প্রমাণ করে যে, এ বয়সে মেয়েদের বিয়ে শুধু জায়েযই নয়, বরং তার সাথে স্বামীর নির্জনবাস এবং মেলামেশাও জায়েয। এখন এ কথা স্পষ্ট যে, কুরআন যে জিনিসকে জায়েয বলে ঘোষণা করেছে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করার অধিকার কোন মুসলমানের নেই।


অতঃ সিদ্ধ হলো যে ইসলামে শিশু বিবাহ দিয়ে শিশুর জীবন ধ্বংস করার বিধান রয়েছে। উপরোক্ত প্রমাণ ছাড়াও আরো অনেক প্রমাণ আছে হাদিসের কিন্তু যেহেতু তাদের সর্বোচ্ছ মান্য কুরআন থেকেই প্রমাণ দেওয়া হয়েছে তাই আর হাদিসের প্রমাণ দিয়ে দীর্ঘায়িত করছিনা।

🖋️লেখরাম আর্য 

ISDPA 

Sunday, 1 October 2023

সত্যার্থ প্রকাশ" নিয়ে মূর্খের আক্ষেপ নিবারণ

 

"সত্যার্থ প্রকাশ" নিয়ে মূর্খের আক্ষেপ নিবারণ!

১ম পর্ব

কিছু নাকে দড়ি বাঁধা উটের আক্ষেপ নিবারণ।

সর্ব বিজ্ঞানময় কিতাবের অনুসারীরা "সত্যার্থ প্রকাশ" এর উপর কিছু আক্ষেপ এনেছেন নিম্নে সেগুলোর কিছু অংশ খণ্ডন করা হল।"সত্যার্থ প্রকাশ" সর্ব বিজ্ঞানময় কিতাবধারীদের মনে আতঙ্ক তৈরী করে,তাই তারা এই গ্রন্থটিকে সর্ব বিজ্ঞানময় কিতাবের কাল্পনিক আজরাইল এর মতই ভয় পাই।যাই হোক আমি এটাই বলবো যে,"ইয়ে ডর হ্যামে আচ্ছা লাগা"!

মূল বিষয়ে যাওয়া যাক!


১ নং আক্ষেপঃ
"সত্যার্থ প্রকাশ" এর অষ্টম সমুল্লাসে সূর্য,চন্দ্র এবং অন্যান্য নক্ষত্রদির মধ্যে মনুষ্য প্রজার অবস্থান করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে,এটা সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক।

১নং অক্ষেপ নিবারণঃ

সত্যার্থ প্রকাশ,অষ্টম সমুল্লাসে উল্লেখিত অংশটিই আগে দেখে নেয়া যাক।

প্রশ্ন—সূর্য্য, চন্দ্র এবং তারা ইহারা কি বস্তু এবং উহাতে মনুষ্যাদির সৃষ্টি আছে অথবা নাই ?

উত্তর—এ সব ভূগোল লোক এবং ইহাতে মনুষ্যাদি প্রজাও অবস্থান করে। কারণ :-

এতেষু হী সর্ব বসুহিত মেতে হী সর্ব বাসয়ন্তে, তদ্যদিদ সর্ব বাসয়ন্তে তস্মাদ্বসব ইতি ॥ শতঃ । কাঃ ১৪। প্রঃ ৬। ব্রাং ৯। কঃ ৪ ॥

পৃথিবী, জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ, চন্দ্র, নক্ষত্র এবং সূর্য্য ইহাদিগের নাম বসু ; কারণ

ইহাতে সকল পদার্থ আছে এবং প্রজা বাস করে। ইহারা বাস করায় বলিয়া এবং নিবাসের উপযোগী

গৃহতুল্য হওয়াতে ইহাদিগের নাম বসু হইয়াছে। যখন সূর্য্য, চন্দ্র এবং নক্ষত্রও পৃথিবীর তুল্য

বসু, তখন উহাতে যে এইরূপ প্রজ৷ আছে তদ্বিষয়ে সন্দেহ কি ? অধিকন্তু যখন পরমেশ্বরের এই

ক্ষুদ্র লোকও মনুষ্যাদি হৃষ্টিতে পরিপূর্ণ, তখন এই সকল লোক কি শূন্য হইতে পারে ? পরমেশ্বরের

কোন কাৰ্য্যই নিষ্প্রয়োজন হয় না। তবে এই সকল অসংখ্য লোকে মনুষ্যাদি সৃষ্টি না থাকিলে,ইহারা কি সফল হইতে পারে ? সুতরাং সর্ব্বত্রই মনুষ্যাদির সৃষ্টি আছে।

প্রশ্ন— এই দেশে মনুষ্যাদি সৃষ্টির আকৃতি এবং অবয়ব যেরূপ, অন্য জগতেও কি তদ্রূপ হইবে অথবা তাহার বিপরীত হইবে ?

উত্তর—কোন কোন আকৃতি বিষয়ে ভেদ হইবার সম্ভাবনা আছে। যেমন এদেশ হইতে চীনে,আফ্রিকায়, আর্য্যাবর্ত্ত ও ইউরোপে অবয়ব, বর্ণ, রূপ ও আকৃতি সম্বন্ধে কিছু কিছু ভেদ হইয়া থাকে। এইরূপ লোক লোকান্তরেও পার্থক্য হয় পরন্তু এদেশে যে জাতির যেরূপ সৃষ্টি আছে অন্য লোকেও উক্ত জাতির তদ্রূপ সৃষ্টি আছে। এদেশে শরীরের যে যে প্রদেশে নেত্রাদি অঙ্গ সন্নিবেশিত আছে, লেকান্তরেও উক্ত জাতির অবয়ব তদ্রূপই আছে কারণ :-

সূৰ্য্যাচন্দ্রমসৌ ধাতা যথা পূৰ্ব্বমকল্পয়ৎ।
দিবং চ পৃথিবীং চান্তরীক্ষমথো স্বঃ॥
ঋঃ। মঃ ১০। সূঃ ১৯০ ॥

(ধাতা ) পরমাত্মা পূর্ধ্ব কল্পে যেরূপ সূর্য্য, চন্দ্র, দ্যৌ, ভূমি, অন্তরীক্ষ এবং সেখানের সুখ বিশেষ পদার্থ রচনা করিয়াছেন, এই কল্পেও অর্থাৎ এই সৃষ্টিতেও তদ্রূপ রচনা করিয়া সমস্তলোক ও লোকান্তর নির্মাণ করিয়াছেন, কিঞ্চিন্মাত্রও ভেদ করেন নাই।

প্রশ্ন—এই লোকে যে বেদের প্রকাশ আছে উক্ত সকল লোকে সেই বেদেরই প্রকাশ আছে অথবা নাই ?

উত্তর— সেই বেদেরই প্রকাশ আছে। যেমন এক রাজার রাজ্যব্যবস্থা এবং নীতি সকল দেশেই সমান হয় তদ্রূপ রাজরাজেশ্বর পরমাত্মার বেদোক্ত নীতি আপনার সৃষ্টিরূপ সকল রাজ্যেই একরূপ আছে।

প্রশ্ন—যখন এই জীব এবং প্রকৃতিস্থ তত্ত্ব অনাদি এবং ঈশ্বর নির্ম্মিত নহে, তখন ইহাদিগের উপর ঈশ্বরের অধিকার হওয়া উচিত নহে; কারণ সকলেই স্বতন্ত্র রহিয়াছে।

উত্তর—যেমন রাজা এবং প্রজা সমকালেই হয় এবং রাজার অধীন প্রজা থাকে তদ্রূপ পরমেশ্বরের অধীন জীব এবং জড়পদার্থ থাকে। যখন পরমেশ্বর সকলের সৃষ্টিকর্ত্তা, জীবদিগের কর্ম্মফলদাত৷ সকলের যথাবৎ রক্ষক এবং অনন্ত সামর্থ্যবিশিষ্ট তখন অল্প সামর্থ্য এবং জড় পদার্থ কেন তাঁহার অধীন হইবে না? এইজন্য কর্ম্মানুষ্ঠান বিষয়ে জীব স্বাধীন কিন্তু ফলভোগ বিষয়ে ঈশ্বরের ব্যবস্থার অধীন। এইরূপে সর্ব্বশক্তিমান্ পরমেশ্বর সমস্ত বিশ্বের সৃষ্টি, সংহার এবং পালন করিয়া থাকেন।অষ্টম সমুল্লাসে উল্লেখিত বাক্যগুলো হতে সেই নাকে দড়ি বাঁধা উটের মনে প্রশ্ন উদয় হল যে সূর্য্য,চন্দ্র এগুলোতে কি মনুষ্য থাকা সম্ভব?যদি সর্ব বিজ্ঞানময় কিতাব পড়ে বিজ্ঞান বুঝতে যায় এই অবস্থায় হয়।

প্রথমে "মনুষ্য" বলতে কি বুঝায় সেটা দেখা যাক।

নিরু০ ৩।৭ ‘মনুষ্যাঃ কস্মাৎ । মত্বা কর্মাণি সীব্যন্তি মনস্যমানেন সৃষ্টাঃ মনস্যতিঃ পুনর্মনস্বীভাবে মনোরপত্যম্ মনুষো বা’ = মনুষ্য কেন বলা হয় ? কেননা (১) চিন্তা করে কাজ করে, বিনা বিচারে না (২) প্রশস্ত মনযুক্ত থেকে যে উৎপন্ন হয়েছে (৩) মননশীলের সন্তান - মনুষ্য হবে ।

তাহলে নিরুক্ত অনুসারে আমরা "মনুষ্য" এর অর্থ জানলাম।

যাদের মনে এই প্রশ্নটি এসেছে তাদের জন্য নিচে নাসার একটি আর্টিকেল দেওয়া হল।আশা করি এটি পড়ে অনেক কিছু জানতে পারবে।

https://www.nasa.gov/topics/universe/features/universe20120911.html

নাসার আর্টিকেল পড়ার জন্য বলবো সর্ব বিজ্ঞানময় কিতাবধারী ব্যক্তিদের।


২নং আক্ষেপঃমহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী মন্ত্র বানিয়ে ফেলেছেন এবং ঋগ্বেদ ১০ মণ্ডলের ০১ নং সুক্তে মন্ত্র আছে ৭ টি।

২নং আক্ষেপ নিবারণঃ

মূর্খের ইহাই সমস্যা,যাহা জানে না সেটা জানিবার চেষ্টাও করে না।কোন বিষয় না জানিয়া থাকিলে তাহা জানিবার প্রচেষ্টা করা উচিত।

সেই উম্মতের দাবী ছিল ঋগ্বেদ ১০ মণ্ডলের ০১ নং সুক্তে নাকি মন্ত্র আছে ৭ টি।তিনি এই রেফারেন্স কোথায় পেলেন?বাংলা সংস্করণে এই মন্ত্রাংশের কোন রেফারেন্স দেওয়া নেই।২য় সংস্করণ(বাংলা),৪র্থ সংস্করণ(বাংলা),মীমাংসক সংস্করণ(হিন্দি) এমনকি ইংরেজী সংস্করণেও নেই।।এই ছবিগুলো নিচে দেওয়া হল—








উপরের ছবিগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে ঐ মন্ত্রাংশে সরাসরি কোন রেফারেন্স দেওয়া নেই।তাহলে এটা কি চালাকি বা তাকিয়াবাজী?যদি চালাকী অথবা মিথ্যাচার না হয় তবে আমরাও দেখতে চাই মূল হার্ড কপি থেকে এবং কততম সংস্করণ সেটাও।

তবে আজমির সংস্করণে ২ টা রেফারেন্স আছে।সেটা দেখা যাক—



ঋগ্বেদ(১০/৩১/৮) এবং অথর্ববেদ(৪/১১/১),এইমন্ত্রাংশটি দুই মন্ত্রের সংযুক্তি।ঋগ্বেদ(১০/৩১/৮) হতে "উক্ষা" এবং অথর্ববেদ(৪/১১/১) হতে "আধার পৃথিবীমূত দ্যাম" নেওয়া হয়েছে।






তাই উম্মতের দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা।মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী কোন মন্ত্র নিজ হইতে তৈরী করেন নি বরং তিনি বুঝানোর জন্য দুইটি মন্ত্র হতে কিছু পদ নিয়ে লিখেছেন।তবে যদি প্রিন্টিং মিস্টেক হয় সেটা অবশ্যই যাচাই বাচাই করে দেখতে হবে।


৩নং আক্ষেপঃমাংসভোজীদের প্রতি স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর বিদ্বেষ!

৩নং আক্ষেপের নিবারণঃ

পবিত্র বেদ সনাতন ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ এবং মূল শাস্ত্র। তাই বেদে যেহেতু প্রাণী হত্যা নিষেধ সেহেতু মাংস ভক্ষণও নিষেধ।গীতায় বলা হয়েছে—

যঃ শাস্ত্রবিধিমুত্সৃজ্য বর্ততে কামকারতঃ৷
ন স সিদ্ধিমবাপ্নোতি ন সুখং ন পরাং গতিম্৷৷২৩
তস্মাচ্ছাস্ত্রং প্রমাণং তে কার্যাকার্যব্যবস্থিতৌ৷
জ্ঞাত্বা শাস্ত্রবিধানোক্তং কর্ম কর্তুমিহার্হসি৷৷২৪
অধ্যায়ঃ১৬

অনুবাদঃশাস্ত্রবিধি পরিত্যাগ করে যে কামাচারে বর্তমান থাকে, সে সিদ্ধি বা সুখ বা পরমগতি লাভ করতে পারে না।অতএব, কর্তব্য ও অকর্তব্য নির্ধারণে শাস্ত্রই একমাত্র প্রমাণ। অতএব শাস্ত্রীয় বিধি নিষেধের স্বরুপ জেনে কর্ম করা উচিত যাতে পরমার্থিক উন্নতি লাভ করা যায়।(২৩-২৪)

মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী বেদকেই প্রমাণ মানতেন তাই মাংসভোজীদের "রাক্ষস" বলেছেন।যারা প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করে তারাতো রাক্ষসই।যেমন নাকে দড়ি বাঁধা উটেরা।


৪র্থ নং আক্ষেপঃমহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী স্ত্রীর সাথে অতিরিক্ত যৌনসঙ্গম করতে নিষেধ করেছেন।

৪র্থ নং আক্ষেপ নিবারণঃ

মূর্খের কাজ মূর্খামি করা এই উম্মত ঠিক সেটাই করল,মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী সেখানে মনুসংহিতার শ্লোক উদ্ধৃত করেছেন।আর সেই মূর্খ বলছে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী নাকি নিজের কথায়  বলছেন।যাদের শুরুটাই হয়েছিলো মূর্খতা দিয়ে তারাতো মূর্খ হবে এটাই স্বাভাবিক।মনুসংহিতার এই শ্লোকটি কোন ভাবেই অসঙ্গত নয়।শ্লোকটি দেখা যাক—

মৃগয়াক্ষো দিবাস্বপ্নঃ পরীবাদঃ স্ত্রিয়োমদঃ ।
তৌৰ্যত্রিকং বৃথাট্যা চ কামজো দশকো গণঃ ॥
মনুস্মৃতি(৭/৪৭)


অনুবাদঃকামজনিত ব্যসনের সংখ্যা এই: – মৃগয়া, অঙ্গ অর্থাৎ পাশক্রীড়া, জুয়াখেলা ইত্যাদি দিবসে নিদ্রা, কামথ। অথবা অপরের নিন্দাবাদ, স্ত্রীর অতিসঙ্গ, মাদক দ্রব্য অর্থাৎ ম্য, অহিফেন, সিদ্ধি, গাঞ্জা, চরস ইত্যাদি সেবন; গান, বাঘ্য, নৃত্য করা ও করান, শুনা এবং দেখা ; বৃথা ইতস্ততঃ পৰ্যটন; এই দশবিধ কামোপন্ন ব্যসন।।

অতিরিক্ত যৌনতা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।নবীরা খেজুর আর শসা দিয়ে যৌনতা পরীক্ষা করতো বলেই আজকের সর্ব বিজ্ঞানময় কিতাবধারীরা জানে না অতিরিক্ত যৌন সঙ্গম স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।যারা নারী দেহ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের এই বিষয়গুলো বুঝার কথাও না।নিম্নের লিংকটি পড়লে বুঝতে পারবেন অতিরিক্ত যৌনসঙ্গম ক্ষতি কি না।

লিংকঃ

https://www.bissoy.com/q/2218



৫ নং আক্ষেপঃমহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী বলছেন ব্যাসদেব এর পুত্র শুকদেব আমেরিকাতে গেছেন,তখনকার সময় কি আমেরিকা বা চীন এই দেশগুলো ছিল?

৫নং আক্ষেপ নিবারণঃ 

সম্পূর্ণ লেখা না পড়ে মিথ্যাচার করায় হল মুমিনের কাজ।চলুন আগে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর লেখাটা পড়া যাক—

বিষয়ঃবিদেশ যাত্রায় কি আচার বিনষ্ট হয়?

প্রশ্ন—আর্যাবর্তের বাহিরে বিভিন্ন দেশে গমন করিলে আর্যাবর্তবাসীদিগের আচার নষ্ট হয় কি না ?

উত্তর – ইহা মিথ্যা কথা। কারণ, যে কোন স্থানে অন্তর-বাহির পবিত্র করা ও সত্যভাষণাদি আরচণ করা হউক না কেন, তদ্দ্বারা কাহারও কখনও ধর্ম ভ্রষ্ট হয় না। কিন্তু কেহ যদি আর্যাবর্তে থাকিয়াও দুরাচারী হয় তাহাকে ধর্ম ও আচার ভ্রষ্ট বলা হয়। যদি ভিন্ন দেশে গমন করিলে আচার নষ্ট হইত, তাহা হইলে এইরূপ লিখিত হইত না —

মেরোহরেশ্চ দ্বে বর্ষে বর্ষৎ হৈমবতং ততঃ।
ক্রমেণৈব সমাগম্য ভারতং বর্ষমাসদৎ ॥১॥
স দৃষ্ট। বিবিধান দেশান্ চীনণ নিষেবিতান্ ॥ ২॥

এই শ্লোকগুলি মহাভারতের শান্তিপর্বে মোক্ষধর্ম বিষয়ে ব্যাস-শুক সংবাদে লিখিত আছে। অর্থাৎ এক সময়ে ব্যাসদেব তাঁহার পুত্র শুক এবং শিষ্যের সহিত ‘পাতাল' অর্থাৎ আধুনিক আমেরিকায় বাস করিতেন। শুকাচার্য পিতাকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিলেন যে, আত্মবিদ্যা কি এই পর্যন্ত অথবা আরও অধিক ? ব্যাসদেব জানিয়াও উত্তর দিলেন না।কারণ, তিনি পূর্বে এ বিষয়ে উপদেশ দিয়াছিলেন। অপরকে সাক্ষী করিবার জন্য তিনি পুত্র শুকদেবকে বলিলেন, 'হে পুত্র।তুমি মিথিলা নগরীতে যাইয়া জনক রাজাকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিও। তিনি ইহার সমুচিত উত্তর দিবেন'।পিতার বাক্য শুনিয়া শুকাচার্য পাতাল হইতে মিথিলা ভিমুখে যাত্রা করিলেন। প্রথম মেরু অর্থাৎ হিমালয়ের ঈশান উত্তর ও বায়ব্য কোণে অবস্থিত যে দেশ তাহার নাম ‘হরিবর্ষ'। বানরকে হরি বলে। ঐ দেশের অধিবাসিগণ এখনও বানরের ন্যায় রক্তমুখ ও পিঙ্গল নেত্র। বর্তমান সময়ে যে দেশের নাম 'ইউরোপ', সংস্কৃত ভাষায় তাহার নাম 'হরিবর্ষ'। তিনি সেই দেশ, হুণ 'ইহুদী’ দেশও পরিদর্শন করিয়া চীন দেশে আগমন করিলেন। অনন্তর চীন হইতে হিমালয়ে এবং হিমালয় হইতে মিথিলা পুরীতে আগমন করিলেন।

Point of view:পাঠকেরা উপরের লেখাতে কি মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী সরাসরি বলছেন যে তখন ব্যাসদেবের পুত্র শুকদেব আমেরিকাতে ছিল?তিনি বলছেন মহাভারতের শ্লোকে যে নামগুলো আছে সেই নামগুলোর বর্তমান অবস্থান।

আর্যঃমুমিন ভাই আপনার মাথায় কেন এই প্রশ্ন আসলো যে,"শুকদেবের সময় আমেরিকা ছিল কি না"?

মুমিনঃভাই ঐখানে আমেরিকা উল্লেখ আছে,চীনের উল্লেখ আছে তাই।

আর্যঃসম্পূর্ণ লেখাটা পড়েছেন কি?

মুমিনঃনা,নাম উল্লেখ পেয়েছি তাতেই হবে।

আর্যঃলেখাতে মহর্ষিজী মহাভারতের শান্তিপর্ব(৩২৫/৪০) শ্লোকে উক্ত নাম,যেমনঃপাতাল,মিথিলা,হরিবর্ষ ইত্যাদি এর বর্তমান স্থানসমূহের উল্লেখ করেছেন।তাই আপনার প্রশ্নটাতো মূর্খামীর পর্যায়ে চলে যায়।

মূর্খ কোনদিন সঠিক পথের সন্ধান পাই না,কারণ মূর্খতা দিয়ে সত্য যাচাই করা অধিক কঠিন।


৬নং আক্ষেপঃ
মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী ম্লেচ্ছ কূলে উৎপন্ন নারীদের অর্থাৎ যারা সনাতনী নয় তাদেরকে বেশ্যা বলেছেন।

৬নং আক্ষেপ নিবারণঃ

মুমিন ভাইদের মনে কেবল নারীদের বিষয়ে খারাপ ভাবই উৎপন্ন হয়।যেমনঃতারা বেশ্যা,দাসী এই প্রকার শব্দগুলোর সাথে বেশী পরিচিত তাই তারা তাদের মত করেই এই শব্দগুলোকে গ্রহণ করে।

ঋগ্বেদ(৭/১৮/১৭) নং মন্ত্রের ভাষ্যে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী "বেশ্যা" পদের অর্থ করেছেন "প্রথম হতে" বা "শুরু থেকে"! নিম্নে ছবি দেওয়া হল—




তাহলে সত্যার্থ প্রকাশে উল্লেখিত বাক্যটির অর্থ এমনও হতে পারে," ভ্রষ্টাচারী ম্লেচ্ছকুলোৎপন্না যারা শুরু থেকে বা প্রথম থেকে সমাগমে যুক্ত হয়েও আচার বা ধর্ম ভ্রষ্ট হয় না।

৭নং আক্ষেপঃমহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী বলেছেন আপৎকালীন সময় ব্যতীত শুদ্রের পাত্রে এবং ঘরে রান্না করা অন্য খাওয়া যাবে না।ইহাতো শুদ্রকে ছোট করা হয়ে যায়!

৭নং আক্ষেপ নিবারণঃ 

মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী আপস্তম্ব ধর্মসূত্রের একটি রেফারেন্স দিয়েছেন মাত্র!আপস্তম্ব ধর্মসূত্র(২/২/৩/৪) এ বলা হয়েছে,"অথবা শুদ্রও আর্যজনের দেখাতে এই অন্ন তৈরী করতে পারবে"।


মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী এখানে নিয়মের কথা বলেছেন তাতে সমস্যাটা কি সেটাই বুঝতে পারছি না।যার যেটা নিয়ম সেটাই এখানে তুলে ধরা হল।তাই এখানে আক্ষেপ করার চেয়ে বিষয়টাকে ভালোভাবে ধনাত্মক পর্যায়ে চিন্তা করায় শ্রেয়।যেমন ইসলামে নারীদের মসজিদে গিয়ে পুরুষদের সাথে নামাজ পড়ার কোন নিয়ম নাই,তাহলে এখানে কি বলা যাবে যে নারীদের অসম্মান বা ছোট করে দেখা হয়েছে!

বি.দ্রঃ২য় পর্ব পড়তে এই ব্লগে চোখ রাখুন।

ও৩ম্ কৃণ্বন্তো বিশ্বমার্যম্

Saturday, 30 September 2023

সত্যার্থ প্রকাশ" নিয়ে মূর্খের আক্ষেপ নিবারণ

 

"সত্যার্থ প্রকাশ" নিয়ে মূর্খের আক্ষেপ নিবারণ! 


২য় পর্ব

৮ঃ


 ৮নং আক্ষেপঃ"সত্যার্থ প্রকাশ" এর চতুর্থ সমুল্লাসে মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী নিয়োগের মাধ্যমে পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা বলেছেন।এটা কত নিকৃষ্ট কথা।

৮নং আক্ষেপ নিবারণঃ যারা শুরু থেকেই কপি করে অভ্যস্ত, তারা আজও সেটা ছাড়তে পারে নি। ভালোভাবে পড়তে জানে না অথচ কপি করতে উস্তাদ।"নিয়োগ" সনাতন ধর্মের শাস্ত্রীয় নিয়ম। তবে নিয়োগের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম এবং নির্দিষ্ট সময় আছে। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিয়োগ করা যাবে। এটি হল আপদ্ধর্ম!প্রয়োজন ব্যতীত এটি প্রযোজ্য নয়।

"নিয়োগ" বিষয়ে শাস্ত্রীয় প্রমাণ জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করে বিস্তারিত পড়ুন-

https://aryapsbd.blogspot.com/2023/01/blog-post_3.html

যদি আমরা ইসলাম মতবাদের দিকে দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখি যে,"ইসলামে দাসীর সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্ভোগ করার পারমিশন রয়েছে। এটাকে কি তাহলে খারাপ বলা যাবে না?"নিয়োগ" এবং দাসীর সাথে বিবাহবহির্ভূত যৌনমিলন করার মধ্যে পুরোপুরি পার্থক্য আছে।"নিয়োগ" কেবল সন্তান উৎপাদনে অক্ষম নারী,পুরুষের জন্য। এর নির্দিষ্ট নিয়ম এবং সময় আছে। অন্যদিকে দাসীপ্রথায় যে কেউ দাসীর সাথে যৌনমিলন করতে পারবে এবং ক্রয়,বিক্রয় করতে পারবে এমন লিখনী ইসলামিক স্কলারদের বইয়েই পাই। তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ,"মারিয়া আল কিবতীয়া"!আশা করি সকলে সেই নারীকে/দাসীকে চিনেন। 

৯ঃ

৯নং আক্ষেপঃ সত্যার্থ প্রকাশের একাদশ সমুল্লাসে(৫ম সংস্করণ) দয়ানন্দ সরস্বতী  লিখিয়াছে যে সুভদ্রাকে বামমার্গীগণ জগন্নাথ এবং বলরামের মাঝখানে বসিয়ে স্ত্রী বানাইয়া দিয়েছে।

৯নং আক্ষেপ নিবারণঃ কপিবাজ পাখণ্ডীগণের জ্ঞান যে কবে হবে!প্রথমে " সত্যার্থ প্রকাশ" এ লিখিত বিষয়টি দেখি।

এই জগন্নাথে বামমার্গিগণ ভৈরবী চক্র রচনা করিয়াছিল। কারণ সুভদ্রা শ্রীকৃষ্ণ ও বলদেবের ভগ্নী। তাঁহাকেই দুই ভ্রাতার মধ্যস্থলে স্ত্রী ও মাতার স্থানে বসাইয়াছে। ভৈরবী চক্র না হইলে এ ব্যাপার কখনও হইত না।


উপরোক্ত লেখায় উল্লেখিত "স্ত্রী" শব্দটি নিয়েছেন পাখণ্ডীগণ অথচ "মা" শব্দটি চোখে দেখেনি।এখানে ভৈরবী চক্রের বর্ণনায় মহর্ষি দয়ানন্দ এই কথাগুলো লিখেছিল।

১০ঃ

১০নং আক্ষেপঃ "সত্যার্থ প্রকাশ" এর ৩য় সংস্করণের,২য় সমুল্লাস,৩০ নং পৃষ্ঠায়  মহর্ষি দয়ানন্দ বলেছেন,"ব্রহ্মচর্য পালন করে অনেকেই চারশ বছর পর্যন্ত আয়ু পেতে পারেন"!

১০নং আক্ষেপ নিবারণঃ এই কথাটিও কপি করেছে অন্যের কাছ থেকে। নিজেদের জাত ভাইদের থেকে কপি করে মিথ্যাচার করা কোন ভালো মানুষের কাজ কি হতে পারে?মুমিন ভাই যে দাবী করেছেন তা একদম মিথ্যা।

"চোরে চোরে মাসতুতো ভাই,ধরা খাইলে জামিন নাই"!

এক মূর্খ যখন অন্য মূর্খকে কপি করে এমনই হয়।"সত্যার্থ প্রকাশ",তৃতীয় সংস্করণ,২য় সমুল্লাস,৩০ নং পৃষ্ঠায় কি আদৌ এমন কোন কিছু লিখিত আছে?চলুন দেখা যাক—



দেখুন,এইখানে কোথায় এমন কথা লেখা আছে? ছাগলে খেয়ে ফেলা আয়াতগুলো খুঁজতে গিয়ে নতূন কথাটি আবিষ্কার করে ফেললো মুমিন ভাই।

১১ঃ

১১নং আক্ষেপঃ স্ত্রী যদি কটু কথা বলে স্বামীর উচিত সেই স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে অন্য নারীর সাথে নিয়োগ করা।

১১নং আক্ষেপ নিবারণঃ মিথ্যাবাদীরা মিথ্যাকেই সবসময় সত্য মনে করে।তার জাতভাই যেটা বলেছে,সে সেটাই বিশ্বাস করে নিয়েছে।চলুন প্রথমে দেখে আসি " সত্যার্থ প্রকাশ" এ মহর্ষি দয়ানন্দ কি বলছে—
প্রোষিতে৷ ধৰ্ম্মকাৰ্য্যার্থং প্রতীক্ষ্যোহষ্টো নরঃ সমাঃ।
বিদ্যার্থং ষড়যশোর্থং বা কামার্থং ক্রীংস্তু বৎসরান্ ॥ ১ ॥
বন্ধ্যাষ্টমেহধিবেদ্যাব্দে দশমে তু মৃতপ্রা।
একাদশে স্ত্রী জননী সদ্যত্ত্বপ্রিয়বাদিনী ॥ ২॥ 
মনুঃ৯/৭৬/৮১।
বিবাহিত পতি ধৰ্ম্মার্থে পরদেশে গমন করিলে অষ্ট বৎসর, বিদ্যা অথবা কীর্তির জন্য হইলে ছয় বৎসর এবং ধনাদি কামনার জন্য বাইরে গেলে তিন বছর পর্যন্ত বিবাহিত স্ত্রী বরের প্রতীক্ষা করে পশ্চাৎ নিয়োগ দ্বারা সন্তানোৎপত্তি করিয়া লইবে; এবং বিবাহিত পতি প্রত্যাগমন করিলে নিযুক্ত পতির সহিত আর সম্বন্ধ থাকিবে না॥১॥ 

এইরূপ পুরুষের পক্ষেও নিয়ম আছে স্ত্রী বন্ধ্যা হইলে অষ্ট বর্ষ অর্থাৎ বিবাহ হইতে অষ্ট বর্ষের মধ্যে গর্ভ না হইলে, সন্তান হইয়া মরিয়া যাইলে দশ বৎসর, কেবল কন্যামাত্র প্রসবিনী হইলে একাদশ বৎসর এবং দুর্ব্বাক্যবাদিনী হইলে সদ্য উক্ত স্ত্রীকে পরিত্যাগ করিয়া নিয়োগ দ্বারা সন্তানোৎপত্তি করিয়া লইবে। ২। 

তদ্রূপ পুরুষও অত্যন্ত দুঃখদায়ক হইলে স্ত্রীর উচিত যে উক্ত স্বামীকে ত্যাগ করিয়া অপর পুরুষ হইতে নিয়োগ দ্বারা সন্তানোৎপত্তি করিয়া উক্ত পতির দায়াধিকারী সন্তান করিয়া লইবে।পূর্বোক্ত প্রমাণ এবং যুক্তিসমূহ অনুসারে স্বয়ম্বর বিবাহ এবং নিয়োগদ্বারা স্ব স্ব কুলের উন্নতি করিতে হইবে। মিথ্যাবাদী ভণ্ডরা কি দাবী করেছিলো আর এখানে কি আছে?

কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করা যাক,

১ঃ"সত্যার্থ প্রকাশ" এর ২য় সংস্করণে মনুস্মৃতির রেফারেন্সের স্থলে প্রিন্টিং মিসটেক আছে।সেখান (৯/৭৬ এবং ৮১) হবে।



২ঃমহর্ষি দয়ানন্দ এখানে মনুস্মৃতির শ্লোক উদ্ধৃত করেছেন।তাই বিষয়টা মনুস্মৃতি দিয়েই বিচার করতে হবে।


বিচারঃ "সত্যার্থ প্রকাশ" ২য় সংস্করণ,৪র্থ সমুল্লাস,৮৮ পৃষ্ঠায় মূর্খদের দাবীকৃত বাক্যগুলো নেই।অর্থাৎ তারা কেবল  মিথ্যাচারই করেছে।তাই মূর্খদের অনুরোধ করবো যে,সত্যটা না জেনে মিথ্যা প্রচার করবেন না।

১২ঃ

১২ নং আক্ষেপঃ মহর্ষি দয়ানন্দ সত্যার্থ প্রকাশ,৫ম সংস্করণ,৪র্থ সমুল্লাস,পৃষ্ঠা ৮১ তে বলেছে,"তামাটে গায়ের রঙ, পুরুষ অপেক্ষা লম্বা নারী, শক্তিশালী নারী, স্থুলকায়া/ মোটা মেয়ে, শরীরে লোমহীন বা অধিক লোমযুক্ত নারী, কপিল বর্ণের চোখ যে নারীর তাদেরকে বিয়ে করা যাবে না।

১২ নং আক্ষেপ নিবারণঃ উটের বাচ্চা এমন কথা কোথায় পেল?তারা কি আবার নতুন করে "সত্যার্থ প্রকাশ" লিখতে চাই নাকি?চলুন দেখি ৮১ নং পৃষ্ঠায় কি লেখা আছে—



উপরোক্ত ছবির প্রমাণ থেকে বুঝা যায় যে,উটের বাচ্চারা কতটা মিথ্যাবাদী।তাদের দাবীকৃত কোন কথায় উক্ত পৃষ্ঠায় নেই।

১৩ঃ

১৩নং আক্ষেপঃ গুগলে "মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী" লিখে চার্জ দিলে তার বাবা মায়ের নাম আসে না কেন?

১৩নং আক্ষেপ নিবারণঃ চলুন আমরা নিজেরাই দেখে আসি—

ছোট বাচ্চাদের মত আচরণ কেন করে এই মূর্খরা এটাই বুঝি না।সমস্ত কুরআন,হাদীস্,বাইবেল ইত্যাদি খুঁজলেও মুসলিমদের নবী ঈসা (সাঃ) এর বাবার নাম পাওয়া যায় না,তাহলে ঈসারও কি জন্ম নিয়োগের মাধ্যমে হয়েছে এটা মেনে নিব?তাই মূর্খতা করার আগে অন্তত পক্ষে ভালো করে পড়া বা জানা উচিত।

১৪ঃ

১৪নং আক্ষেপঃ আর্যদের গৃহে শুদ্ররা এবং স্ত্রী পুরুষরা রন্ধন আদি সেবা কার্য্য করবে।এখানে দয়ানন্দ সরস্বতী শুদ্রদের বিদ্বেষ করেছেন এবং মূর্খ বলেছেন!

১৪ নং আক্ষেপ নিবারণঃ প্রথমে "সত্যার্থ প্রকাশ" এ কি লেখা আছে সেটা দেখি—
প্রমাণ শ্রবণ কর :-
আৰ্য্যাধিষ্ঠিতা বা শূদ্রাঃ সংস্কর্ভারঃ স্ন্যুঃ ॥
আপস্তম্বসূত্র। প্ৰঃ ২ । পটঃ ২। খণ্ড ৩। সূত্র ৪ ॥

আর্য্যদিগের গৃহে শূদ্র অর্থাৎ মূর্খ স্ত্রী এবং পুরুষ পাকাদি সেবা করিবে কিন্তু ইহারা শরীর এবং বস্ত্রাদি সম্বন্ধে পবিত্র থাকিবে।

এখানে আপস্তম্ভ ধর্মসূত্র(২/২/৩/৪) সূত্রটি উল্লেখ করেছে।সেই সূত্রটি দেখা যাক—

এবার দেখি শুদ্রদের কাজ কি?

শুদ্রধর্মঃ পরো নিত্যম্ শুশ্রুষা চ দ্বিজাতিষু (৫৭)
স শুদ্রঃ সম্পিততপাঃ সত্যবাদী জিতেন্দ্রিয়ঃ ।
শুশ্রুষুরতিথি প্রাপ্তম্ তপঃ সম্চিনুতে মহত্ (৫৮)
নিত্যম্ স হি শুভাচারো দেবতাদ্বিজপুজকঃ ।
শুদ্রো ধর্মফলৈরিষ্টৈঃ সম্প্ৰয়ুজ্যেত বুদ্ধিমান্। (৫৯)
(মহাভারত অনুশাসন পর্ব, দানধর্ম পর্ব, অধ্যায়ঃ১৪১, গীতাপ্রেস)

অনুবাদঃ শূদ্রের পরম ধর্ম হল তিন বর্ণের সেবা করা। যে শূদ্র সত্যবাদী, জিতেন্দ্রিয়,আর ঘরে আসা বিদ্বান অতিথির সেবাকারী, সে মহান তপের সঞ্চয় করে নেয়। তার সেবারূপ ধর্ম হল তার জন্য কঠোর তপস্যা।নিত্য সদাচার পালন আর ঈশ্বরভক্ত তথা বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যকে সম্মানকারী বুদ্ধিমান শূদ্র ধর্মের মনোবাঞ্ছিত ফল প্রাপ্ত করে।

মহাভারত থেকে দেখলাম শুদ্রের কাজ হল অন্য তিন বর্ণের সেবা করা।যার যা কর্ম সেটায় তুলে ধরেছেন মহর্ষি দয়ানন্দ।

এবার দেখা যাক," অন্য বর্ণ গ্রহণ করতে পারবে"?

জ্ঞানবিজ্ঞানসম্পন্নঃ সস্কৃতো বেদপারগঃ ।

বিপ্রো ভবতি ধর্মাত্মা ক্ষত্রিয়ঃ স্বেন কর্মণা।।৪৫

অনুবাদঃ এইভাবে ধর্মাত্মা ক্ষত্রিয় নিজের কর্মের দ্বারা জ্ঞানবিজ্ঞান সম্পন্ন,সংস্কারযুক্ত তথা বেদের পারঙ্গত বিদ্বান ব্রাহ্মণ হয়।

এতৈঃ কর্মফলৈৰ্দেবি ন্যুনজাতিকুলোদ্ভবঃ ।
শুদ্রোপ্যাগমসম্পন্নো দ্বিজো ভবতি সস্কৃতঃ।।৪৬

অনুবাদঃ দেবী ! এই কর্ম ফলের প্রভাব দ্বারা নীচ জাতি এবং হীন কুলে উৎপন্ন হওয়া শূদ্রও শাস্ত্র জ্ঞান সম্পন্ন আর সংস্কারযুক্ত ব্রাহ্মণ হয়।

(মহাভারত অনুশাসন পর্ব, দানধর্ম পর্ব, অধ্যায়ঃ১৪৩,গীতাপ্রেস)

আবার,ব্রাহ্মণও তার কর্মগুণে শুদ্র বর্ণে পতিত হয়।

স দ্বিজো বৈশ্যতামেতি বৈশ্যো বা শুদ্ৰতামিয়াত্ ।
স্বধর্মাত্ প্রয়ুতো বিপ্ৰস্ততঃ শুদ্রত্বমাপ্লুতে।। ১১

অনুবাদঃ যদি বৈশ্য শূদ্রের কর্মকে গ্রহণ করে, তাহলে সে শূদ্রত্বকে প্রাপ্ত করে। শূদ্রচিৎ কর্ম করে নিজের ধর্মে ভ্রষ্ট হওয়া ব্রাহ্মণ শূদ্রত্বকে প্রাপ্ত করে।

(মহাভারত অনুশাসন পর্ব, দানধর্ম পর্ব, অধ্যায়ঃ১৪৩,গীতাপ্রেস)

তাহলে উপরোক্ত প্রমাণ হতে বুঝা যায় মহর্ষি দয়ানন্দ শুদ্র বিদ্বেষ করে নি বরং শুদ্রের কাজ সম্পর্কে বলেছেন।

এখন আসি "মূর্খ" শব্দটি নিয়ে। "শুদ্র" তাদেরকে বলা হয় যাদের জ্ঞান একদমই কম।যাদের জ্ঞান কম তারা অবশ্যই মূর্খ।
উদাহরণ হিসেবে আমরা মুসলিমদের নবীর কথা বলতে পারি।
আমরা দুই পর্বে মূর্খদের "সত্যার্থ প্রকাশ" নিয়ে মিথ্যাচারের খণ্ডন করেছি।তবুও তারা মিথ্যাচার করে যাবে কারণ যারা স্বয়ম্ মিথ্যার উপরই প্রতিষ্ঠিত তারা কি আর সত্যকে মেনে নিবে?

[বি.দ্রঃমুমিন(মূর্খ) হইতে সাবধান।]

বিব্রত হবেন না!

কারণ,

"সত্যমেব জয়তে"

ও৩ম্ কৃণ্বন্তো বিশ্বমার্যম্

Mrichachhakam DR SRI NIBAS SASTRI